ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রশাসনিক কাঠামোতে রদবদল অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রক্টোরিয়াল বডি থেকে সরে দাঁড়ালেন সহকারী প্রক্টর ও লোক প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। আজ সোমবার (১১ মে, ২০২৬) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তার মাধ্যমে তিনি নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আনেন।
সোমবার বেলা ১১টার আগেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট শেয়ার করেন শেহরীন আমিন। সেখানে তিনি সহকারী প্রক্টর পদ থেকে অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাঁর এই পদত্যাগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং (ইসরাফিল রতন)।
ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর জানান, সকালে মুঠোফোনের মাধ্যমে শেহরীন আমিন তাঁর পদত্যাগপত্র কার্যালয়ে জমা দেওয়ার বিষয়টি অবহিত করেছেন। তবে প্রক্টর তখন একটি জরুরি সভায় ব্যস্ত থাকায় পদত্যাগপত্রে সুনির্দিষ্ট কী কারণ দর্শানো হয়েছে, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানাতে পারেননি।
ফেসবুক পোস্টে শেহরীন আমিন তাঁর শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত সাত বছরের শিক্ষকতা জীবনে প্রশাসনিক কোনো দায়িত্ব পালনের বিশেষ আকাঙ্ক্ষা তাঁর ছিল না। তবে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট যখন তৎকালীন প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ তাঁকে এই পদের জন্য আহ্বান জানান, তখন তিনি তা সানন্দে গ্রহণ করেন। একজন তরুণ শিক্ষক হিসেবে প্রক্টোরিয়াল বডির মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কাজ করাকে তিনি বড় সম্মান হিসেবে দেখতেন।
সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদের অধীনে কাজ করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি লেখেন, গত কয়েক বছরে তিনি ধৈর্য এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করার অসাধারণ কৌশল শিখেছেন। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কীভাবে শান্ত থেকে আত্মসম্মান বজায় রেখে কাজ করতে হয়, সেটিই ছিল তাঁর বড় শিক্ষা।
শেহরীন আমিন তাঁর পোস্টে জুলাই মাসের উত্তাল দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন। তিনি মনে করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অন্য কোনো প্রক্টোরিয়াল টিমকে সম্ভবত এমন নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি। জুলাই ও জুলাই-পরবর্তী সময়ে দেশ যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে, তা ভবিষ্যতে আর কখনও আসবে কি না, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, গতকাল রোববার (১০ মে) ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ পদত্যাগ করেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন চারুকলা অনুষদের গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর সরকার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ২৮ আগস্ট অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদকে প্রক্টরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাঁর পদত্যাগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিনের সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।