ঝালকাঠির নলছিটিতে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির স্মরণে ‘শহীদ স্মৃতি মঞ্চ’ এর কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। সোমবার বেলা ১১টায় শহরের কুড়িপট্টি এলাকায় হাদির শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত পৈত্রিক টিনের ঘরে এই কার্যালয়টির উদ্বোধন করা হয়। তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আনন্দ ছাপিয়ে সেখানে মুখ্য হয়ে ওঠে জুলাই বিপ্লবের এই শহীদের বিচার না পাওয়ার আক্ষেপ ও ক্ষোভ।
কার্যালয় উদ্বোধন শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নলছিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ সেলিম তালুকদার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন যে, ওসমান হাদির আত্মত্যাগের এতদিন পার হয়ে গেলেও বিচারের দাবিতে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বিশেষ করে ভারত থেকে অভিযুক্তদের ফিরিয়ে এনে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় আনার জোর দাবি জানান তারা। সরকারের বর্তমান অবস্থানেও হতাশা প্রকাশ করেন বক্তারা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি। তিনি বলেন, “ওসমান হাদি শুধু আমাদের পরিবারের সন্তান নয়, সে জুলাই বিপ্লবের এক অবিনাশী চেতনা। আজ দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও আমরা সুষ্ঠু বিচার পাচ্ছি না। হাদি হত্যার বিচার না হওয়া মানে জুলাই আন্দোলনের চেতনা পরাজিত হওয়া।”
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিচারের দীর্ঘসূত্রতা তাদের চরম হতাশায় নিমজ্জিত করেছে। মাসুমা হাদি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যদি দ্রুত অপরাধীদের শাস্তির আওতায় না আনা হয়, তবে জুলাইয়ের রাজপথের ত্যাগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।
নলছিটির কুড়িপট্টি এলাকায় অবস্থিত হাদির শৈশবের সেই ঘরটি এখন থেকে তার স্মৃতি রক্ষার্থে এবং জুলাই আন্দোলনের আদর্শকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই স্মৃতি মঞ্চটি কেবল একটি কার্যালয় নয়, বরং এটি ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের একটি প্রতীক হয়ে থাকবে।
সমাবেশ শেষে বক্তারা পুনরায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শহীদের রক্ত যেন বৃথা না যায়, সেজন্য অনতিবিলম্বে অভিযুক্তদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। অন্যথায় ছাত্র-জনতা আবারো রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।