ছবিঃ উত্তরপত্র

মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষার্থীদের অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের চার মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি শিক্ষা খাতের চলমান বিভিন্ন সংস্কার কর্মসূচি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং মন্ত্রণালয়ের গত চার মাসের অর্জনের বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো ধরনের প্রশ্নফাঁস কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই এবারের পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে, যা আমাদের জন্য একটি বড় শিক্ষাগত ও প্রশাসনিক সাফল্য। আর এটি সম্ভব হয়েছে শিক্ষা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত সহযোগিতার ফলে।”
সরকারের ঘোষিত বিশেষ ‘১৮০ দিনের কর্মসূচি’-র আওতায় শিক্ষা খাতে গুণগত মানোন্নয়ন, কাঠামোগত সংস্কার এবং শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্থবির হয়ে পড়া বা ঝুলে থাকা কাজগুলোকে সচল করতে জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের স্থগিত থাকা বিভিন্ন বৃত্তি পরীক্ষাগুলো দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি শিক্ষা জটিলতার অবসানের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আগে বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল ও কিন্ডারগার্টেনগুলো প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সরকারি বৃত্তি পরীক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে চাইত না বা নানা সমস্যা তৈরি হতো। আমরা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সেই দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করেছি এবং সব স্কুলকে এক ছাতার নিচে এনে বৃত্তি কার্যক্রম সফলভাবে শেষ করতে পেরেছি।”
দেশের শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম বড় অভিশাপ সেশনজট কমিয়ে আনার লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন ও আধুনিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, এখন থেকে নির্ধারিত পাঠ্যসূচি বা সিলেবাস শেষ হওয়ার পরপরই কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে।
শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সুবিধার্থে এবং মানসিক প্রস্তুতি সহজ করার জন্য এক বছর আগেই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি বা রুটিন ঘোষণা করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা আগে থেকেই তাদের পড়াশোনার পরিকল্পনা সাজাতে পারবে।
শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কোনো বাধা ছাড়াই অব্যাহত রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “ডিজিটাল ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ার অংশ হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দেশব্যাপী ১ লাখ ২০ হাজার শিক্ষককে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়ার কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে এই যুগান্তকারী কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেছিলেন।”
এ ছাড়া তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষকদের মধ্যে নতুন উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করতে দেশব্যাপী ‘ইনোভেশন আইডিয়া শোকেস’ নামক বিশেষ প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছে। এই কার্যক্রমের চূড়ান্ত ও সমাপনী অনুষ্ঠান আগামী ২৮ ও ২৯ জুন অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে ৩২টি সম্মেলন ও শিক্ষাবিষয়ক প্রদর্শনী থাকবে এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের কেবল চার দেয়ালের পড়াশোনায় আবদ্ধ না রেখে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ওপর সমান জোর দিচ্ছে বর্তমান সরকার। ড. এহসানুল হক মিলন জানান, গত ৪ এপ্রিল থেকে সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দেশব্যাপী ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। ছেলে ও মেয়ে উভয় বিভাগের এই ব্যাপক প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত বা ফাইনাল পর্ব আগামী ২০ জুন জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো দেশের প্রচলিত মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থাকে বদলে একটি আনন্দময় ও মানবিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের চর্চা, নৈতিক শিক্ষা প্রদান, পারিবারিক মূল্যবোধের জাগরণ, মানসম্মত স্কুল ড্রেস এবং মিড-ডে মিলের (দুপুরের খাবার) মতো বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে।”