জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি জনকল্যাণবিরোধী সিদ্ধান্ত—সরকারের সমালোচনা - Uttorpatro TV

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি জনকল্যাণবিরোধী সিদ্ধান্ত—সরকারের সমালোচনা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ১৯, ২০২৬

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে জনগণের প্রতি সুবিচারহীন সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। সমালোচনায় বলা হয়, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার যেভাবে জ্বালানি খাত পরিচালনা করেছে, বর্তমান সিদ্ধান্ত তারই ধারাবাহিকতা। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের কাছ থেকে যে ধরনের পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ প্রত্যাশিত ছিল, সরকার তা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১২০ ডলার থেকে কমে প্রায় ৯০ ডলারে নেমে এলেও, সেই প্রেক্ষাপটে দেশে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, যা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সরকার মজুদের কথা বললেও এর সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার জনগণের জন্য কী কল্যাণ করতে চায়—সে বার্তা স্পষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানি তেলের জন্য গতকাল শনিবার ঢাকার ভাষানটেকের মাটিকাটা এলাকায় গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি- Prothom Alo

সমালোচনায় আরও বলা হয়, সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তই জনগণের কল্যাণে নেওয়া হয়—এই বার্তাটি মানুষের কাছে পৌঁছানো জরুরি। কিন্তু বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তে সেই কল্যাণের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে জ্বালানি তেলের জন্য রাতভর অপেক্ষা করতে গিয়ে রাজধানীর মিরপুরে এক ব্যক্তি সড়কের পাশেই কাঁথা বিছিয়ে শুয়ে পড়েন—এ দৃশ্য বর্তমান পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।

সমালোচকদের ভাষ্য, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের আচরণ হতে হবে জনবান্ধব। অথচ জ্বালানি খাতে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত, নিগৃহীত ও নিপীড়িত হয়েছে।

তারা আরও উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ নিম্ন আয়ের। এ বাস্তবতায় বেসরকারি খাতনির্ভর ব্যয়বহুল সেবা গ্রহণ করা অধিকাংশ মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয়। তাই জ্বালানি খাতে এমন সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর আরও চাপ তৈরি করছে।