রংপুর প্রতিনিধি:
রংপুরের কাউনিয়ার হারাগাছ পৌর শহরে একটি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমকে সরকারি ভাতা দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগে হারাগাছ পৌর ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম রঞ্জুকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে দলটি।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে হারাগাছ পৌর বিএনপির সভাপতি মোনায়েন হোসেন ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন দাজুর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে শোকজ করা হয়।
শোকজ নোটিশে বলা হয়, হারাগাছ পৌর শহরের মোল্লাটারী জামে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমকে সরকারি ভাতার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম রঞ্জুর বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে আগামী তিন দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হারাগাছ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন দাজু।
তিনি বলেন, সরকারি ভাতা প্রদানের নামে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়া অপরাধ। মোল্লাটারী জামে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের কাছ থেকে টাকা নেওয়া এবং পরে তা ফেরত দেওয়ার একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি দলের নজরে আসে।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পৌর বিএনপির নেতারা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করেন। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সাইদুল ইসলাম রঞ্জুকে শোকজ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মোল্লাটারী জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন নুর আমীন জানান, সরকারি ভাতার তালিকায় তাদের তিনজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রথমে তাদের কাছে ৩৪ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে আলোচনার একপর্যায়ে ৩০ হাজার টাকা দিলে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানানো হয়।
তার দাবি, প্রথমে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং বাকি টাকা কয়েক দিন পর দেওয়ার কথা ছিল। তবে দলীয় পরিচয়ে টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরদিন ওই টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, শোকজপ্রাপ্ত সাইদুল ইসলাম রঞ্জু গণমাধ্যমকে দাবি করেছেন, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।
অভিযোগের বিষয়ে তাকে সাংগঠনিকভাবে জবাব দেওয়ার জন্য তিন দিনের সময় দিয়েছে হারাগাছ পৌর বিএনপি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার জবাব পাওয়ার পর দল পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রাথমিক তদন্তের কথা বলা হলেও শোকজপ্রাপ্ত নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।