ঢাবি সিন্ডিকেটের বড় সিদ্ধান্ত: অধ্যাপক সাদেকা হালিমকে স্থায়ী বরখাস্তের সুপারিশ, ৬ শিক্ষক অব্যাহতি ও ১৫ বছরের নিয়োগ পর্যালোচনার নির্দেশ - Uttorpatro TV ঢাবি সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত: সাদেকা হালিম বরখাস্তের সুপারিশ ও নিয়োগ পুনঃতদন্ত

ঢাবি সিন্ডিকেটের বড় সিদ্ধান্ত: অধ্যাপক সাদেকা হালিমকে স্থায়ী বরখাস্তের সুপারিশ, ৬ শিক্ষক অব্যাহতি ও ১৫ বছরের নিয়োগ পর্যালোচনার নির্দেশ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: July 30, 2026
ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসনের সাম্প্রতিক সিন্ডিকেট সভায় একাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও বিগত শাসনকালের নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে নজিরবিহীন ও কঠোর কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক ডিন ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার সুপারিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে সিন্ডিকেট। একই সাথে শ্রেণিকক্ষে ও বাইরে অশিক্ষকসুলভ আচরণ এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্তও করা হয়েছে।

গত ২৮ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের গুরুত্বপূর্ণ সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।

সাদেকা হালিমসহ একাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রমতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াসহ নানা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ড. সাদেকা হালিমের বিষয়টি ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্তের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রশাসনিক আদেশ জারি করা হবে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ড. সাদেকা হালিম জানান, বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন তবে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করতে চান না।

সাদেকা হালিম ছাড়াও নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দুই শিক্ষক—অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক ড. আফরোজা শেলীকে শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, অভ্যুত্থানের চেতনা পরিপন্থী কার্যক্রম, সরকারবিরোধী অপপ্রচার ও নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অবস্থানের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিত, ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সারা শামসুর রউফ এবং পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলামকে (রফিক শাহরিয়ার) অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পিএইচডি ও এমফিল গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির প্রমাণের অভিযোগে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনকেও সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে প্রশাসন।

বিগত ১৫ বছরের নিয়োগ ও হেকেপ প্রজেক্টের স্বচ্ছতা যাচাই

ঢাবি সিন্ডিকেটের অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত হলো ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদে সম্পন্ন হওয়া সকল নিয়োগ পর্যালোচনা করা। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো স্বজনপ্রীতি বা অনিয়ম ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখতে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামকে প্রধান করে অনুষদের সব ডিনদের সমন্বয়ে এক উচ্চপর্যায়ের কমিটি করা হয়েছে।

পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘হেকেপ’ (HEQEP) প্রজেক্টের অধীন বিভিন্ন গবেষণা তহবিলের অর্থের সঠিক ব্যবহার হয়েছিল কিনা, তা অনুসন্ধানে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে আরেকটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।

‘নীল দল’ নিষিদ্ধকরণ দাবি ও শিক্ষক তালিকার তদন্ত

আওয়ামী লীগ সমর্থক শিক্ষক সংগঠন ‘নীল দল’-এর কার্যক্রম এবং জুলাই আন্দোলনে আন্দোলনবিরোধী ভূমিকা পালনকারী ২৩১ জন শিক্ষকের একটি তালিকা সম্প্রতি ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকবৃন্দ’ প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়া হয়। সিন্ডিকেট সভা এই তালিকা মূল্যায়নে উপাচার্য ও দুই উপ-উপাচার্যের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে নীল দলসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠন নিষিদ্ধের ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. তাজমেরি এস এ ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, “শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং আন্দোলনের চেতনাকে কটূক্তি করার অভিযোগে প্রাথমিক প্রমাণ সাপেক্ষে বেশ কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও একই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

অফিস শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) এ কে এম মাহবুব মুস্তফাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এছাড়া জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগকে অমর করে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মলচত্বর এলাকায় ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ আগস্ট এর ভিত্তিপ্রস্তর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।