মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী ছবি: সংগৃহীত

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম, বিশিষ্ট ইসলামি গবেষক ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞ মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী। আজ মঙ্গলবার বেলা তিনটায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ে তিনি বিদায়ী মহাপরিচালক আ. ছালাম খানের স্থলাভিষিক্ত হন।
এর আগে গত ২১ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকীকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি আগারগাঁও প্রধান কার্যালয়ের সভাকক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় ও পরিচিতি সভায় অংশ নেন।
পরিচিতি সভায় নবনিযুক্ত মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী তাঁর ওপর এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি দেশের ইসলামি মূল্যবোধের উন্নয়ন এবং দ্বীনি সেবাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকারের সদিচ্ছার প্রশংসা করেন।
সভায় কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে নতুন মহাপরিচালক অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বর্তমান সরকার ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায় না। বরং দেশের প্রথিতযশা আলেম-ওলামা, ইসলামি চিন্তাবিদ, গবেষক এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এটিকে আরও আধুনিক, কার্যকর, সেবামুখী ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন হবে এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে দ্বীনি সেবার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা হবে। এই মহৎ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি ফাউন্ডেশনের সব স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন এবং আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল এবং সময়োপযোগী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী বলেন, “আমাদের কাজের মধ্যে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে পরিচ্ছন্ন কর্মপরিবেশ বজায় রাখা, কঠোর নিয়মানুবর্তিতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সাথে সরকারি বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেন। একটি আধুনিক ও আস্থার প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে গড়ে তুলতে নতুন কর্মপরিকল্পনা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।
দেশের ইসলামি অঙ্গনে অত্যন্ত সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী ১৯৯৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পেশ ইমাম হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ তিন দশকের কাছাকাছি সময় ধরে তিনি দেশ-বিদেশে একজন শীর্ষস্থানীয় ইসলামি গবেষক, মুহাদ্দিস ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞ হিসেবে সমাদৃত।
বর্তমানে তিনি সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশের জেনারেল সেক্রেটারি এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসির শরিয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের শরিয়াহ বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য এবং বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসায় ‘শায়খুল হাদিস’ হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে পাঠদান করে আসছেন।
পরিচিতি অনুষ্ঠানে বিদায়ী মহাপরিচালক আ. ছালাম খান নবনিযুক্ত মহাপরিচালককে স্বাগত জানান এবং তাঁর মেয়াদে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (অষ্টম পর্যায়) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এস এম তরিকুল ইসলাম, আইসিটি বিভাগের পরিচালক হাজেরা খাতুন, অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক মো. আবদুল হামিদ খান, অনুবাদ ও সংকলন বিভাগের পরিচালক মো. আনিসুজ্জামান সিকদার, জাকাত ফান্ড ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক ওয়ালীয়ুর রহমান খান এবং ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির উপপরিচালক শাহ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে সঞ্চালনা করেন সমন্বয় বিভাগের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন। এ সময় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন বিভাগের পরিচালক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, একজন প্রাজ্ঞ আলেমের নেতৃত্বে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের স্থবিরতা কেটে যাবে এবং নতুন এক কর্মচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হবে।