ভোরে বিজয় সরণির মার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি টিম। আগুন নিয়ন্ত্রণে - Uttorpatro TV রাজধানীর কলমিলতা বাজারে অগ্নিকাণ্ড: ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা

ভোরে বিজয় সরণির মার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি টিম। আগুন নিয়ন্ত্রণে

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ১৯, ২০২৬
ছবিঃ উত্তরপত্র

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা বিজয় সরণি মোড়ে অবস্থিত কলমিলতা বাজার মার্কেটে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের ব্যাপক তৎপরতা ও অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। ভোরে লাগা এই আগুনের হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে পাশে অবস্থিত একটি বিশেষায়িত কিডনি হাসপাতাল। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ৭টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার ভোর ৫টা ১৪ মিনিটে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এর মাধ্যমে কলমিলতা বাজারে আগুন লাগার খবরটি প্রথম পাওয়া যায়। তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত ব্যবস্থা নেয় ফায়ার সার্ভিস। খবর পাওয়ার মাত্র ছয় মিনিটের মাথায়, অর্থাৎ ভোর ৫টা ২০ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তেজগাঁও ফায়ার স্টেশনের প্রথম তিনটি ইউনিট। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পরবর্তীতে মিরপুর, মোহাম্মদপুর এবং সিদ্দিকবাজার ফায়ার স্টেশন থেকে আরও সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকাজে যোগ দেয়। সব মিলিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে সকাল ৭টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, দুই তলা বিশিষ্ট কলমিলতা বাজার মার্কেটের নিচতলায় মূলত একটি কাঁচা বাজার ও বেশ কয়েকটি কসাইখানা (মাংসের দোকান) ছিল। অন্যদিকে, দ্বিতীয় তলায় ছিল বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক সামগ্রীর দোকান ও সার্ভিস সেন্টার। নিচতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হওয়ায় দ্রুতই তা ছড়িয়ে পড়ে। ভোরে মার্কেট বন্ধ থাকায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে আগুনে কাঁচা বাজার ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

ছবিঃ উত্তরপত্র

 অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শন শেষে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান গণমাধ্যমকে ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, “এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল আগুন যেন কোনোভাবেই পাশের কিডনি স্পেশালাইজড হাসপাতালে ছড়াতে না পারে। আমাদের ফায়ার ফাইটাররা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে ও কৌশলগতভাবে কাজ করেছেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হাসপাতাল এলাকাটিকে সম্পূর্ণ অক্ষত রাখা সম্ভব হয়েছে।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে আগুন আর অন্য কোনো স্থানে ছড়িয়ে পড়ার কোনো ধরনের সম্ভাবনা নেই।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা ফায়ার সার্ভিসের বিরুদ্ধে প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে আসার অভিযোগ তোলেন। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান। তিনি ডিজিটাল প্রমাণের কথা উল্লেখ করে বলেন, “বর্তমান ডিজিটাল যুগে সবকিছুর একটি নির্দিষ্ট ফুটপ্রিন্ট বা ডিজিটাল রেকর্ড থাকে। আমরা ৫টা ১৪ মিনিটে খবর পেয়েছি এবং ঠিক ৫টা ২০ মিনিটে আমাদের প্রথম গাড়ি এখানে এসে কাজ শুরু করেছে। এ বিষয়ে কারও কোনো মনে সন্দেহ বা প্রশ্ন থাকলে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক তদন্তে সব কল রেকর্ড ও ডিজিটাল তথ্য যাচাই করে নেওয়া যাবে।”

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। এই বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং তদন্ত শেষে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত আর্থিক পরিমাণ ও আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হলো, তা বিস্তারিত দেশবাসীকে জানানো হবে। উদ্ধারকাজে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় বাসিন্দা ও যুবকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।