বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। দেশটির সংশ্লিষ্ট চাঁদ দেখা কমিটির পক্ষ থেকে আজ রোববার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
সৌদি আরবের রাজকীয় আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ রোববার পবিত্র জিলহজ মাসের প্রথম দিন গণনা শুরু হচ্ছে। সেই হিসাবে আগামী ১০ জিলহজ অর্থাৎ ২৭ মে (বুধবার) সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদ্যাপিত হবে। আর এর আগের দিন, অর্থাৎ ৯ জিলহজ (২৬ মে) অনুষ্ঠিত হবে ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ পবিত্র হজ।
সৌদি আরবের পবিত্র মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববির বিভিন্ন ধর্মীয় সংবাদ প্রকাশকারী জনপ্রিয় এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডল ‘হারামাইন’ জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। চাঁদ দেখার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান এখন হজের চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন।
সৌদি আরবের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ ওমানও আগামী ২৭ মে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া এশিয়ার মুসলিম প্রধান দেশ ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়াতেও আজ জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২৭ মে বুধবার পবিত্র কোরবানি ঈদ উদ্যাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
ভৌগোলিক অবস্থান এবং চাঁদ দেখার তারতম্যের কারণে সাধারণত সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ঈদ উদ্যাপনের পরদিন বাংলাদেশে পবিত্র ঈদ উদ্যাপিত হয়ে থাকে। সেই দীর্ঘদিনের চেনা ঐতিহ্য ও হিসাব অনুযায়ী, যদি আজ বা আগামীকাল বাংলাদেশের আকাশে চাঁদ দেখা যায়, তবে আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে বাংলাদেশে ঈদের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। আজ বা আগামীকাল সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দেশের কোথাও জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেলে বা না গেলে, সেই অনুযায়ী ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে ঈদের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হবে। যদি আকাশ মেঘলা থাকে বা চাঁদ দেখা না যায়, তবে ২৯ মে শুক্রবারও ঈদ হতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে ২৮ মে বৃহস্পতিবার ঈদ হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।
ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী জিলহজ মাসের ৯ তারিখে পবিত্র আরাফাতের ময়দানে সমবেত হওয়ার মাধ্যমে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এবার আগামী ২৬ মে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখ লাখ হাজি আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হয়ে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করবেন। এর পরের দিন অর্থাৎ ১০ জিলহজ সকালে ঈদের নামাজ আদায়ের পর আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন মুসলমানরা। সৌদি সরকার ইতোমধ্যে পবিত্র হজ ও ঈদ উদ্যাপনের জন্য সব ধরনের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানা গেছে।