আশির দশকের মাঝামাঝি সময়। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। সেই উত্তাল দিনগুলোর একটি অনন্য ও ব্যক্তিগত স্মৃতি সামনে এনেছেন নোয়াখালীর হাতিয়া কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. শাহ ওয়ালী উল্লাহ। তার এই স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছাত্রজীবন নিয়ে এক অজানা অধ্যায়।
অধ্যাপক ওয়ালী উল্লাহর দাবি অনুযায়ী, ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে তিনি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ভর্তির সাক্ষাৎকার দিতে কলাভবনের ডিন অফিসের সামনে অপেক্ষা করছিলেন, তখন মেঝেতে একটি ফাইল পড়ে থাকতে দেখেন। কৌতূহলবশত ফাইলটি হাতে নিয়ে তিনি দেখতে পান, তাতে এসএসসি ও এইচএসসির মূল মার্কশিটসহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সব নথিপত্র রয়েছে। কাগজপত্রের ওপর প্রার্থীর নাম লেখা ছিল ‘তারেক রহমান’ এবং পিতার নাম ‘জিয়াউর রহমান’।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ‘প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’র (নিকার) বৈঠকে নতুন সিটি করপোরেশন ও নতুন পাঁচ উপজেলার অনুমোদন দেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়েছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া
তিনি জানান, ফাইলটি কুড়িয়ে পাওয়ার কিছুক্ষণ পরই একজন তরুণকে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন অবস্থায় কিছু খুঁজতে দেখেন। চেহারার মিল দেখে তিনি বুঝতে পারেন ইনিই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পুত্র। পরে ফাইলটি তার হাতে তুলে দিলে তারেক রহমান তাকে হাসিমুখে ধন্যবাদ জানান।
অধ্যাপক ওয়ালী উল্লাহ দৃঢ়ভাবে দাবি করেন, তারেক রহমান যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন, তা তিনি নিজের চোখে দেখেছেন। সমসাময়িক রাজনৈতিক বিতর্কের জবাবে তিনি বলেন, সম্প্রতি এক রাজনৈতিক নেতা যখন তারেক রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তখন তিনি এই সত্য ঘটনাটি সবার সামনে প্রকাশ করেন। যদিও তারেক রহমান অনার্স সম্পন্ন করেছিলেন কি না সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন, তবে তার ভর্তি হওয়ার বিষয়টি সন্দেহাতীত।
স্মৃতিচারণে উঠে আসে তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থিতিশীল পরিবেশের কথা। মিছিল, মিটিং আর সংঘর্ষের মাঝে একজন ভিআইপি পুত্র হিসেবে তারেক রহমানের জন্য ক্যাম্পাসে যাতায়াত কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল, সে বিষয়েও আলোকপাত করেন এই অধ্যাপক। বিশেষ করে জিয়া হলের সামনে খালেদা জিয়ার সভার সময় গোলাগুলি ও ছাত্রনেতার মৃত্যুর ঘটনা ক্যাম্পাস জীবনের সেই ভয়াবহতাকেই মনে করিয়ে দেয়।
তারেক রহমানের শিক্ষা জীবন নিয়ে এই নতুন তথ্যটি স্থানীয় রাজনীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, এটি নিয়ে যারা সে সময় তারেক রহমানের সহপাঠী ছিলেন, তারাই ভালো বলতে পারবেন। তবে সম্প্রতি সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলও তার বক্তব্যে এই বিষয়টি নিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। চার দশক আগের সেই মানবিক ঘটনাটি আজ কেবল একটি হারানো ফাইল পাওয়ার গল্প নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসের এক বিশেষ সময়ের দলিল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।