পুলিশের বিতর্কিত কর্মকর্তাদের ফের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন: বাড়ছে অসন্তোষ - Uttorpatro TV থানার এসি-টিভি খুলে নেওয়া সেই ওসি এখন বনানীতে; পুলিশের নতুন পদায়ন নিয়ে বিতর্ক।

পুলিশের বিতর্কিত কর্মকর্তাদের ফের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন: বাড়ছে অসন্তোষ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ৯, ২০২৬
ছবি- অনলাইন থেকে সংগৃহীত

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চললেও, বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ ও বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে আনার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ থানা ও জেলা পর্যায়ে এমন কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে অতীতে দুর্নীতি, লুটপাট এবং দমন-পীড়নের গুরুতর অভিযোগ ছিল। পুলিশের উচ্চপর্যায়কে ‘ম্যানেজ’ করে এসব নিয়োগ হচ্ছে বলে খোদ বাহিনীর ভেতরেই কানাঘুষা চলছে।

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থানা থেকে বদলির সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), টেলিভিশন ও আসবাবপত্র খুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছিলেন তৎকালীন ওসি মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। ২০২৩ সালের আগস্টে এই ঘটনা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছিল। সেই বিতর্কিত কর্মকর্তাই এখন রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও ফরিদুল ইসলামের দাবি, আগের সংবাদগুলো ছিল অতিরঞ্জিত।

বাংলাদেশ পুলিশের লোগো

সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে ফেনীর নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে নিয়ে। আওয়ামী শাসনামলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত এসপি থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন ও দুটি হত্যা মামলার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালে যুবদল নেতা মিজানকে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হত্যার মামলায় তিনি অন্যতম আসামি। এ ধরনের গুরুতর অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে একটি জেলার প্রধান করার বিষয়টি সাধারণ মানুষ ও পুলিশ প্রশাসনের সৎ কর্মকর্তাদের মধ্যে বিস্ময় জাগিয়েছে।

দীর্ঘদিন যারা রাজনৈতিক কারণে পদোন্নতি বা ভালো পোস্টিং থেকে বঞ্চিত ছিলেন, তাদের মধ্যে এই পদায়নগুলো চরম হতাশা তৈরি করেছে। অনেক কর্মকর্তার অভিযোগ, বিএনপি-জামায়াত সংশ্লিষ্টতার তকমা দিয়ে তাদের একসময় ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’ করা হয়েছিল। এখন সরকার পরিবর্তনের পরও সেই হাসিনা সরকারের সুবিধাভোগীরাই ঘুরেফিরে রাজকীয় পদ পাচ্ছেন।

সাবেক আইজিপি নূরুল হুদা এ প্রসঙ্গে বলেন, পুলিশ বর্তমানে একটি বড় ইমেজ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে যদি বিতর্কিত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসানো হয়, তবে সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। এটি জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

ঢাকার বাইরেও চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ থানায় এমন কর্মকর্তাদের দেখা যাচ্ছে যারা বিগত সরকারের আমলে দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের চান্দগাঁও ও ইপিজেড থানায় এমন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যাদের বিরুদ্ধে অতীতে বিরোধী মত দমনে সক্রিয় ভূমিকার অভিযোগ ছিল। এছাড়া সাভার, আশুলিয়া এবং গুলশান থানার মতো কৌশলগত এলাকায় কর্মকর্তাদের পদায়ন নিয়েও খোদ বাহিনীর অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (প্রশাসন) আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছেন এবং বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে মন্তব্য করবেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, পুলিশের সংস্কার চাইলে সবার আগে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের প্রভাবশালী পদ থেকে সরিয়ে সৎ ও দক্ষদের মূল্যায়ন করা জরুরি।