
সরকারি দলের নেতাদের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট না থাকার দাবি করা হলেও বাস্তবে দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং চলছে, যা জনগণের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের জেলা আমির সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংলগ্ন আল-ফালাহ মিলনায়তনে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
শফিকুর রহমান বলেন, প্রতিদিন অন্তত ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে, পাশাপাশি অঘোষিত লোডশেডিংয়ের মাত্রাও উল্লেখযোগ্য। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট না থাকলে কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন খাতে চাঁদাবাজি বেড়েই চলেছে, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনগণ চরম কষ্টে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি অতিরিক্ত চাঁদার বোঝা সাধারণ মানুষের ওপর চাপছে বলে দাবি করেন।
জামায়াত আমির আরও বলেন, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও হেলথ কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে দলীয়করণ করা হচ্ছে। এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগও তোলেন তিনি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে’ প্রভাবিত হয়েছে। তিনি বলেন, যদি আগেই ফল নির্ধারণ হয়ে থাকে, তাহলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
জামায়াত আমির শফিকুর রহমান ফাইল ছবি: প্রথম আলো
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
ব্যাংক খাত নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে দুর্নীতিগ্রস্তরা পুনরায় ব্যাংকের মালিকানা ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য হুমকি হতে পারে।
সরকারকে গণভোটের ফল মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের শাসনব্যবস্থাকে স্বচ্ছ করতে প্রয়োজনীয় অধ্যাদেশগুলো আইন আকারে প্রণয়ন করা উচিত।
অনুষ্ঠানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।