চোখের যত্ন ও দৃষ্টি সুরক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে কিশোরগঞ্জে নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস-২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা, বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, ছানি অপারেশনের জন্য রোগী পাঠানো এবং ভ্রাম্যমাণ লোকসংগীত প্রচারণা চালানো হয়। এসব কর্মসূচির মধ্যে বিনামূল্যে চিকিৎসা পেয়েছেন ১৪১ জন। ছানি অপারেশনের জন্য আরও ১৫ জনকে পাঠানো হয়েছে হাসপাতালে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় “আপনার চোখকে ভালোবাসুন”—প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে র্যালি বের করা হয়। শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে র্যালিটি একই কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নাজমুল করিম।
কিশোরগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. মাহবুবা খন্দকারের স্বাগত বক্তব্যের পর বিশ্ব দৃষ্টি দিবস ও হাসপাতালের বিভিন্ন সেবা নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন নারী উদ্যোগ কেন্দ্রের (নউক) হেড অব আই কেয়ার এ.কে.এম. ফিরোজ আলম সাইফুল্লাহ।
রিজিওনাল কোঅর্ডিনেটর এএফএম আহাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নউকের প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর লিডিয়া ইয়াসমিন। তিনি কিশোরগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের মাধ্যমে বিনামূল্যে ছানি অপারেশনসহ বিভিন্ন চক্ষু চিকিৎসাসেবার বিষয় তুলে ধরেন।
এ সময় নউকের মানবসম্পদ ম্যানেজার আরিফা সাইদ, পিকেএসএফ ফান্ডে কাজ করা বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, সিভিল সার্জনের কার্যালয় ও কিশোরগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
১৪১ জন পেলেন চিকিৎসা
বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে নউকের আঞ্চলিক কার্যালয়, শ্রীনগর, গাইটালে আয়োজন করা হয় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প। এতে ১৪১ জন সেবাগ্রহীতাকে বিনামূল্যে প্রাথমিক চক্ষু চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া অরবিস ইন্টারন্যাশনালের আর্থিক সহযোগিতায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের জন্য ১৫ জন রোগীকে কিশোরগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হয়।
গানে গানে চোখের যত্নের বার্তা
চোখের রোগ ও চিকিৎসা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে আন্ধেরি হেল্ফির সহযোগিতায় শহরে চালানো হয় ভ্রাম্যমাণ লোকসংগীত প্রচারণা। গাড়িটি শহরের বিভিন্ন প্রধান সড়কের মোড় ও জনবহুল এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এ সময় শিল্পীরা বাউল ও লোকজ গানের মাধ্যমে চোখের যত্ন ও চিকিৎসা বিষয়ে সচেতনতার বার্তা দেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে চক্ষু সচেতনতামূলক টি-শার্ট বিতরণ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, চোখের বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাই এসব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।