পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বেন ক্রিস্টেনসেন ছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ফুটবল বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ এবার ছুঁয়ে গেল বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কেও। মাঠের লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চের দ্বিতীয় পর্ব নিশ্চিত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আর এই ঐতিহাসিক জয়ের পর পরই বাংলাদেশিদের কাছে নিজ দেশের ফুটবল দলের জন্য সমর্থন চাইলেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। একই সঙ্গে রসিকতা ও আত্মবিশ্বাসের সুরে তিনি বলেছেন, দীর্ঘ মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাজি ধরলে কাউকে কখনো পস্তাতে হবে না।
শনিবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি দ্বিপক্ষীয় নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, আলোচনার বড় একটি অংশ জুড়ে ছিল ফুটবলের উত্তেজনা।
ফিফা বিশ্বকাপে গত রাতের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। রক্ষণ ও আক্রমণের দারুণ ভারসাম্যে অস্ট্রেলিয়াকে ২–০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্ব তথা দ্বিতীয় পর্ব নিশ্চিত করে মার্কিন দল। ফুটবল ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি একটি স্মরণীয় মুহূর্ত। কেননা, বিশ্বকাপে পরপর দুই ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের জয় পাওয়ার ঘটনা এর আগে কেবল ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপেই দেখা গিয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় এক শতাব্দী পর সেই গৌরবময় রেকর্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটাল মার্কিন ফুটবলাররা।
স্বভাবতই দলের এমন সাফল্যে উচ্ছ্বসিত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক আলাপের চেয়ে ফুটবলের জয়গান গাইতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
ক্রিস্টেনসেন হাসিমুখে বলেন,
“আমি আজ এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণে এসেছি। গত রাতে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দারুণ একটা জয় পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং আমরা পরবর্তী পর্বে চলে গেছি। তাই আমি এখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সব বাংলাদেশিকে উৎসাহিত করতে এসেছি, যাতে সামনের দিনগুলোতে বিশ্বকাপে সবাই যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করেন।”
বাংলাদেশিদের ফুটবল উন্মাদনার কথা মাথায় রেখেই তিনি এই আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত যোগ করেন, “দীর্ঘ মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাজি ধরলে আপনাকে কখনো পস্তাতে হবে না।” তাঁর এই মন্তব্যকে কূটনৈতিক ও ক্রীড়াঙ্গন—উভয় দিক থেকেই বেশ ইতিবাচক ও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
শনিবার সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটি থাকলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাওয়ার ঠিক আগের দিন এই বৈঠক নিয়ে কূটনৈতিক মহলে বেশ কৌতুহল তৈরি হয়েছিল। তবে বৈঠক থেকে বেরিয়ে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক বিষয়ের চেয়ে ফুটবলের বড় বিজয়ের প্রসঙ্গ নিয়েই বেশি মাতোয়ারা ছিলেন।
পরবর্তীতে এই বৈঠক প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির একে একটি ‘রুটিন সাক্ষাৎ’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
উল্লেখ্য, রোববার থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছয় দিনের প্রথম বিদেশ সফর শুরু হচ্ছে। এই সফরে তিনি প্রথমে মালয়েশিয়া ও পরে চীন যাবেন। চীন সফরের শুরুর দিকে ২৩ ও ২৪ জুন দালিয়ানে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এই সম্মেলনের পাশাপাশি চীনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
প্রধানমন্ত্রীর এই হাই-প্রোফাইল সফরের আগের দিন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এমন আকস্মিক সাক্ষাৎ এবং ফুটবলকে কেন্দ্র করে খোলামেলা আলোচনা দুই দেশের মধ্যকার স্বাভাবিক ও বন্ধুভাবাপন্ন সম্পর্কেরই ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মাঠের ফুটবলে যুক্তরাষ্ট্র কতদূর যাবে তা সময়ই বলে দেবে, তবে ঢাকার কূটনৈতিক পাড়ায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই ফুটবল কূটনীতি বেশ ভালোই সাড়া ফেলেছে।