ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যাহের আলভী ছবি: প্রথম আলো

ছোট পর্দার পরিচিত মুখ ও নাট্য অভিনেতা যাহের আলভীকে স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক কামাল উদ্দিন এই আদেশ দেন। এর আগে মামলার প্রধান আসামি যাহের আলভী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান। তবে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের এই আদেশের পর নিহতের পরিবার সুষ্ঠু বিচারের আশা প্রকাশ করেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করেন অভিনেতা যাহের আলভী। এরপর তাঁর পক্ষে জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে বক্তব্য পেশ করে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ জানান, “আসামিপক্ষ আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের স্বপক্ষে যুক্তি দেখালে আমরা তার তীব্র বিরোধিতা করি। অপরাধের গুরুত্ব ও মামলার এজাহার বিবেচনা করে বিজ্ঞ বিচারক জামিন আবেদনটি নামঞ্জুর করেন এবং আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।”
আদালতের এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও ইকরার বাবা কবির হায়াত খান। আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আজকে বিজ্ঞ আদালতের এই নির্দেশে আমি আংশিক স্বস্তি পেয়েছি। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার প্রত্যাশা করছি। আমার মেয়েকে যারা মানসিকভাবে নির্যাতন করে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে, সেই যাহের আলভীর আমি সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করি।”
মামলার বিবরণ ও পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে আফরা ইভনাথ খান ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তাঁকে দেখতে পেয়ে স্বজনরা দ্রুত উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ইকরাকে মৃত ঘোষণা করেন। রহস্যজনক এই ঘটনার সময় অভিনেতা যাহের আলভী শুটিং বা ব্যক্তিগত কারণে নেপালে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।
ইকরার আকস্মিক মৃত্যুর পর সেই রাতেই তাঁর বাবা কবির হায়াত খান বাদী হয়ে রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় দায়ের করা এই মামলায় জামাতা যাহের আলভীসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই ইকরার সঙ্গে যাহের আলভীর তীব্র পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। বিভিন্ন সময়ে ইকরার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। দীর্ঘদিনের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, অবহেলা ও পারিবারিক নির্যাতনের কারণেই ইকরা শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হন।
ছোট পর্দার একজন ব্যস্ত অভিনেতার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ এবং পরবর্তীতে তাঁর কারাবাসের আদেশে বিনোদন অঙ্গনে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে নাট্য পাড়ায় এই নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নেটিজেনরা ইকরার মৃত্যুর সঠিক তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।
পুলিশ প্রশাসন ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এর তদন্ত চালানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ হাতে এলে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে। আপাতত মূল অভিযুক্ত যাহের আলভী আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে রয়েছেন এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী মামলার কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।