পল্লবীতে শিশু হত্যা: অভিযোগপত্র গ্রহণ, ৫-৭ দিনে বিচার শেষের আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর - Uttorpatro TV পল্লবীতে শিশু হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র গ্রহণ, ১ জুন শুনানি | Pallabi Child Murder

পল্লবীতে শিশু হত্যা: অভিযোগপত্র গ্রহণ, ৫-৭ দিনে বিচার শেষের আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ২৪, ২০২৬
পল্লবীতে ধর্ষণের পর শিশুহত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল রানা ফাইল ছবি

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের এক শিশুকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। আদালত এই অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আগামী ১ জুন মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন। মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে তদন্ত, ডিএনএ পরীক্ষা এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন সংগ্রহ করে রেকর্ড সময়ে এই চার্জশিট জমা দেওয়া হলো।

আজ রোববার (২৪ মে) বিকেলে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নিয়ে এই আদেশ দেন। এর আগে দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত এই অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি চূড়ান্ত বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন। আদেশ জারির পর কড়া নিরাপত্তায় দুই আসামিকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ রোববার সচিবালয়ে ছবি: আরিফুর রহমান

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ রোববার সচিবালয়ে ছবি: আরিফুর রহমান

 গত ১৯ মে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর পল্লবীর একটি আবাসিক ভবনের তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে ওই শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নৃশংস এই ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা গত বুধবার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করার কথা সরাসরি স্বীকার করেন। ঘটনার সহযোগী হিসেবে তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেফতার দেখানো হয়।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনা করে গত বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিহত শিশুটির পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারকে গভীর সমবেদনা জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দৃঢ় আশ্বাস দেন।

এদিকে, এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ সকালে সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত এক সংলাপে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এই দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এই অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপক্ষ যা যা করা দরকার, তার সবকিছুই করবে। হত্যাকাণ্ডের পর আসামিকে মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এক দিনের মধ্যে আদালতে তাঁর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।”

দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী আরও জানান যে, আদালতের বিশেষ অনুমতি নিয়ে মাত্র তিন দিনের মধ্যে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে ডিএনএ ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর, রাতেই পুলিশের তদন্ত দল অভিযোগপত্র তৈরির কাজ শেষ করে। মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই একজন বিশেষ পিপি (সরকারি কৌঁসুলি) নিয়োগ করা হয়েছে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ায় সরকার আশা করছে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।