অস্ট্রেলিয়া সিরিজে এবার সেরা পারফর্মারের জন্য থাকছে বিলাসবহুল গাড়ি: তামিমের বড় চমক - Uttorpatro TV বোর্ডের ভাবমূর্তি ফিরছে, ক্রিকেটে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে বড় ব্র্যান্ডগুলো: বিসিবি সভাপতি তামিম

অস্ট্রেলিয়া সিরিজে এবার সেরা পারফর্মারের জন্য থাকছে বিলাসবহুল গাড়ি: তামিমের বড় চমক

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ১৭, ২০২৬
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল

বাংলাদেশ ক্রিকেটে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ক্রিকেটারদের মাঠের বাইরের অনুপ্রেরণা জোগাতে এক দারুণ ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নিউজিল্যান্ড ও চলমান পাকিস্তান সিরিজে ক্রিকেটারদের জন্য বাইক উপহার দেওয়ার পর, এবার আসন্ন হাই-ভোল্টেজ অস্ট্রেলিয়া সিরিজকে সামনে রেখে আরও বড় এক চমকের ঘোষণা দিয়েছে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অ্যাডহক কমিটি। অজিদের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজে যে বাংলাদেশি ক্রিকেটার সেরা পারফর্ম করবেন, তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হবে একটি ব্র্যান্ড নিউ বিলাসবহুল ‘চেরি’ গাড়ি।

আজ মঙ্গলবার মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের বিসিবি কার্যালয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং আন্তর্জাতিক অটোমোবাইল ব্র্যান্ড ‘চেরি’র মধ্যে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল এই আকর্ষণীয় পুরস্কারের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ মিলিয়ে সামগ্রিকভাবে যিনি সেরা বাংলাদেশি ক্রিকেটার নির্বাচিত হবেন, তিনিই পাবেন এই বিশেষ লাক্সারি কার।

জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য আরও চাঙ্গা করতে এবং মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে এই উদ্যোগ বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা। সাধারণত সিরিজ সেরা বা ম্যাচ সেরার পুরস্কার আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত থাকলেও, ঘরের মাঠে নিজেদের ক্রিকেটারদের বাড়তি মূল্যায়নের এই ধারা দেশের ক্রিকেটে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।

অনুষ্ঠানে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বলেন, “চেরির মতো একটি বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত হওয়া অত্যন্ত ইতিবাচক একটি বার্তা বহন করে। বিগত কয়েক বছরে বিভিন্ন কারণে ক্রিকেট বোর্ডের প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যার প্রভাব পড়েছিল স্পন্সরশিপের ক্ষেত্রেও। তবে আনন্দের বিষয় হলো, বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির স্বচ্ছতা ও সদিচ্ছার কারণে বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো আবারও দেশের ক্রিকেটে বিনিয়োগ করতে দারুণ আগ্রহ দেখাচ্ছে।”

তামিম আরও উল্লেখ করেন যে, এর আগের সিরিজগুলোতেও দেশের নামকরা বাইক প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো স্পন্সর হিসেবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যুক্ত হয়েছিল, যা বোর্ডের প্রতি তাদের ক্রমবর্ধমান আস্থারই প্রমাণ।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে বিশেষ কোনো জয় কিংবা ব্যক্তিগত অনন্য অর্জনের জন্য ক্রিকেটারদের বড় বড় পুরস্কার দেওয়ার ইতিহাস বেশ পুরোনো। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তামিম ইকবাল আবেগঘন কণ্ঠে তাঁর পারিবারিক এক স্মৃতির কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, ২০০০ সালের পর বাংলাদেশের ক্রিকেটের শুরুর দিনগুলোতে, বিশেষ করে দেশের প্রথম ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের গৌরবময় মুহূর্তে তাঁর বড় ভাই ও সাবেক টাইগার ওপেনার নাফিস ইকবাল এমন একটি বিশেষ পুরস্কার পেয়েছিলেন।

সেই ঘটনার পর প্রায় দুই দশক কেটে গেলেও ঘরোয়া বা আন্তর্জাতিক সিরিজে বোর্ডের পক্ষ থেকে এমন বড় উদ্যোগ আর দেখা যায়নি। দীর্ঘ বিশ বছর পর আবারও সেই ঐতিহ্যকে ক্রিকেটের স্বার্থে ফিরিয়ে আনার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য অটোমোবাইল ব্র্যান্ড চেরিকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান বিসিবি বস।

বিসিবিতে বড় বড় বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের স্পন্সর হিসেবে ফিরে আসা এবং তামিম ইকবালের ব্যক্তিগত ক্যারিশমার কারণে এগুলো সম্ভব হচ্ছে কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বেশ বিনয়ী উত্তর দেন দেশসেরা এই সাবেক ওপেনার। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “এটিকে কোনোভাবেই ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মূলত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি দেশের ও আন্তর্জাতিক স্পন্সরদের আস্থার প্রতিফলন। বোর্ডের একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে আমি কেবল আমার দায়িত্ব পালন করেছি এবং স্পন্সরদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছি। তারা তামিম ইকবালকে দেখে নয়, বরং বাংলাদেশ ক্রিকেট ও বিসিবিকে সম্মান জানিয়েই এই মহতী উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।”

অস্ট্রেলিয়া সিরিজের মতো কঠিন কন্ডিশন ও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই ধরনের মেগা পুরস্কার ঘোষণা নিঃসন্দেহে শান্ত-লিটনদের মানসিক শক্তি ও জেদ বাড়িয়ে দেবে। এখন দেখার বিষয়, অজিদের বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে ব্যাটে-বলে জাদু দেখিয়ে কোন ক্রিকেটার নিজের গ্যারেজে তুলতে পারেন এই বিলাসবহুল চেরি গাড়ি।