ভোট পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গে রক্তক্ষরণ: ৬ তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু ও ছারখার মুসলিমদের দোকান। - Uttorpatro TV পশ্চিমবঙ্গে ভয়াবহ সহিংসতা: ৬০ দোকান জ্বালানোর অভিযোগে বিজেপিকে নিশানা অভিষেকের

ভোট পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গে রক্তক্ষরণ: ৬ তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু ও ছারখার মুসলিমদের দোকান।

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ১১, ২০২৬
ছবি- অনলাইন থেকে সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকে রাজ্যজুড়ে অস্থিরতা ও নাশকতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ক্ষমতার পালাবদলের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও প্রাণহানির ঘটনা রাজনৈতিক উত্তাপকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজয়ী বিজেপি পক্ষ থেকে পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষ ও বিরোধী দলের কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে।

রোববার এই পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, নিরীহ মানুষের ঘরবাড়ি ও দোকান পুড়িয়ে কি রাজ্যে শান্তির পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব?

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরি অঞ্চলের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। সেখানে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব চালিয়ে প্রায় ৬০টিরও বেশি দোকান জ্বালিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় হিন্দু ও মুসলিম—উভয় সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ীরাই সর্বস্ব হারিয়েছেন। বিশেষ করে খেজুরির নিচকসবা গ্রাম পঞ্চায়েতের হিজলি শরিফ এলাকায় যে বর্বরতা চালানো হয়েছে, তাকে বাংলার সামাজিক সম্প্রীতির ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

ভিডিও বার্তায় অভিষেক বলেন, “সাধারণ মানুষের জীবিকা ধ্বংস করে বিজেপি ভয়ের রাজনীতি কায়েম করতে চাইছে। বাংলা কোনোদিন এই ধ্বংসাত্মক রাজনীতির কাছে মাথা নত করবে না।”

তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি অনুযায়ী, ভোট-পরবর্তী এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত তাদের ছয়জন সক্রিয় কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের তালিকায় রয়েছেন নানুরের আবির শেখ, এন্টালির তাপস নস্কর, কুলপির মিঠুন সামন্তসহ আরও কয়েকজন। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু হত্যাকাণ্ডই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। অসংখ্য কর্মী প্রাণভয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করেন যে, বিজেপি মুখে শান্তির কথা বললেও বাস্তবে তাদের কর্মীরা ঘৃণা ও বিভেদের রাজনীতি ছড়িয়ে দিচ্ছে। এই হামলা কেবল রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর নয়, বরং সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের ওপর প্রতিহিংসামূলক আচরণ।

তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের অভিযোগ, মাঠ পর্যায়ে সহিংসতা বন্ধে কার্যকর কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। তারা এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বের দাবি—বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনাকে রাজনৈতিক রঙ দিয়ে বড় করে দেখানো হচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের হাহাকার এবং পুড়ে যাওয়া দোকানপাটের ছবি পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির এক করুণ চিত্র ফুটিয়ে তুলছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অস্থিরতা দ্রুত প্রশমিত না হলে রাজ্যের সাধারণ জনজীবন ও অর্থনৈতিক অবস্থা আরও সংকটের মুখে পড়বে।