আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আগাম প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রতিবারের মতো এবারও ঈদ যাত্রার সব টিকিট অনলাইনে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রেলপথ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ প্রস্তুতিমূলক সভায় টিকিট বিক্রির এই দিনক্ষণ ও আনুষঙ্গিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৩ মে থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। ওইদিন পাওয়া যাবে ২৩ মে’র যাত্রার টিকিট। পর্যায়ক্রমে ১৪ মে মিলবে ২৪ মে’র, ১৫ মে পাওয়া যাবে ২৫ মে’র, ১৬ মে ২৬ মে’র এবং ১৭ মে বিক্রি হবে ২৭ মে’র টিকিট। ঈদ উদযাপন শেষে কর্মস্থলে ফেরার সুবিধার্থে ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে ২১ মে থেকে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, ৩০ এপ্রিলের প্রাথমিক সভার পরিকল্পনাগুলো পর্যালোচনার পর গতকালের বৈঠকে তা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে পশ্চিমাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের টিকিট বিক্রির সময়ে ভিন্নতা আনা হয়েছে। রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের (পশ্চিমাঞ্চল) টিকিট বিক্রি শুরু হবে প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে। অন্যদিকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ পূর্বাঞ্চলের টিকিট কেনা যাবে দুপুর দুইটা থেকে।
রেলওয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন যাত্রী সর্বোচ্চ চারটি টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে এই অগ্রিম টিকিট কোনোভাবেই ফেরত দেওয়া যাবে না। এ ছাড়া সাধারণ যাত্রীদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে মোট আসনের ২৫ শতাংশ টিকিট ‘স্ট্যান্ডিং’ বা দাঁড়িয়ে যাওয়ার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা কেবল যাত্রার দিন কাউন্টার থেকে সংগ্রহ করা যাবে। তবে দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট নিয়ে উচ্চ শ্রেণির কোচে ভ্রমণ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ১০টি বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ‘তিস্তা স্পেশাল’ ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রুটে এবং ‘চাঁদপুর স্পেশাল’ চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে চলাচল করবে। এই ট্রেনগুলো ২৫ মে থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এবং ঈদের পরবর্তী তিন দিন সেবা দেবে। পাশাপাশি জয়দেবপুর-পার্বতীপুর রুটে চলবে ‘পার্বতীপুর স্পেশাল’। ঈদের দিন শোলাকিয়া ঈদগাহে যাতায়াতের জন্য ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে চারটি বিশেষ ট্রেন পরিচালিত হবে।
কোরবানির পশু পরিবহনের সুবিধার্থে ‘ক্যাটল স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন ২২ ও ২৩ মে চলাচল করবে। ট্রেনগুলো দেওয়ানগঞ্জ বাজার ও ইসলামপুর বাজার থেকে পশুবাহী ওয়াগন নিয়ে ঢাকার কমলাপুর, তেজগাঁও ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে পৌঁছাবে। মূলত পশুব্যাপারী ও খামারিদের স্বল্প খরচে এবং দ্রুত সময়ে বাজারে পশু পৌঁছানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে