শাপলা চত্বর গণহত্যা: শেখ হাসিনাসহ ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে, ঢাকাতেই ৩২ জনকে হত্যার প্রমাণ মিলেছে - Uttorpatro TV

শাপলা চত্বর গণহত্যা: শেখ হাসিনাসহ ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে, ঢাকাতেই ৩২ জনকে হত্যার প্রমাণ মিলেছে

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ৩, ২০২৬
ছবি- উত্তরপত্র টিভি

২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে ‘গণহত্যা’ চালানো হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, ওই দিনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩২ জনকে হত্যার অকাট্য প্রমাণ পেয়েছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

রোববার (৪ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর তদন্তের অগ্রগতি বিষয়ে এসব তথ্য জানান।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, “ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা দীর্ঘ সময় ধরে এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ তদন্ত কাজ শেষ হয়েছে। আমরা আশা করছি, চলতি মাসেই তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করতে সক্ষম হব।”

তিনি আরও জানান, এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট আসামির সংখ্যা ২০ থেকে ২৫ জনের মতো হতে পারে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই সব আসামির নাম প্রকাশ করছেন না তিনি।

শাপলা চত্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে হওয়া এই মামলায় (মিস কেস) প্রাথমিকভাবে ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে অন্যতম হলেন:

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (পলাতক), সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর (পলাতক), সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার (পলাতক), সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ (পলাতক) ,গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার (পলাতক)

মামলায় এজাহারভুক্ত নয়জন আসামির মধ্যে চারজন বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন: ১. সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু ২. সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক ৩. বরখাস্তকৃত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ৪. পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্লা নজরুল ইসলাম।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাতের অন্ধকারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চালানো অভিযানটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল। তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য দেওয়া হলেও বর্তমান তদন্ত সংস্থা ৩২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ ও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত শুরু হয়।