নিরাপত্তা ইস্যুতে গত ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ না করাকে সরকারের একটি ‘বড় ভুল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সম্প্রতি মুম্বাইয়ে ‘ইইউ টি-টুয়েন্টি বেলজিয়াম’-এর একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
১৯৯৯ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশ ক্রিকেট দল কোনো বিশ্বকাপ আসরে অংশ নিতে ব্যর্থ হলো। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে ভারত সফরের অনুমতি না দেওয়ায় বাংলাদেশের পরিবর্তে খেলার সুযোগ পায় স্কটল্যান্ড। সাকিব বলেন:
“এতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বিরাট ক্ষতি হয়েছে। আমরা ক্রিকেটপ্রেমী দেশ হিসেবে সব সময় বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্তটি মোটেও সঠিক ছিল না।”
রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বিসিসিআই সরিয়ে নেওয়ার পর ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে চিড় ধরে। বিসিবি ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের প্রস্তাব দিলেও আইসিসি তা নাকচ করে দেয়, যার ফলে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে বাংলাদেশ। তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও স্পষ্ট করেছিলেন যে, এটি ছিল সরকারের একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত।
সাকিব আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের বরফ গলবে।
দীর্ঘদিনের সতীর্থ তামিম ইকবালের বিসিবি সভাপতির (অ্যাডহক কমিটি) দায়িত্ব গ্রহণকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন সাকিব। গত বছর সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলেও তামিমের নতুন ভূমিকা নিয়ে সাকিব বলেন:
তামিমের নেতৃত্বে বিসিবির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সফল হবে।
তার হাত ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেট নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
ক্রিকেটীয় উন্নয়নে সাবেক খেলোয়াড়দের নেতৃত্বে আসা ইতিবাচক।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দেশের বাইরে থাকা সাকিবের নামে বেশ কিছু মামলা রয়েছে। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া বর্তমান সরকারের ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হক সম্প্রতি জানিয়েছেন, সাকিব ও মাশরাফির বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সাকিব বলেন, অবসরের আগে তিনি দেশের মাটিতে তিন সংস্করণের একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলে বিদায় নিতে চান। তিনি আশাবাদী যে, খুব শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং তিনি মিরপুরের মাঠে নিজের বিদায়ী ম্যাচটি খেলতে পারবেন।