কাশির সঙ্গে রক্ত (হিমোপটিসিস): কারণ, পার্থক্য ও করণীয় – Uttorpatro TV

কাশির সঙ্গে রক্ত (হিমোপটিসিস): কারণ, পার্থক্য ও করণীয়

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ১৭, ২০২৬

কাশির সময় রক্ত বের হওয়াকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় হিমোপটিসিস বলা হয়। এই রক্ত সাধারণত ফুসফুস, শ্বাসনালি বা গলা থেকে আসতে পারে। তবে অনেক সময় এটি আসলে রক্তবমি (Hematemesis) কি না, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

কাশির রক্ত ও রক্তবমির পার্থক্য

কাশির রক্ত সাধারণত উজ্জ্বল লাল রঙের হয় এবং এতে ফেনা বা শ্লেষ্মা (কফ) মিশ্রিত থাকতে পারে। অনেক সময় দীর্ঘদিনের কাশি, বুকব্যথা বা শ্বাসকষ্টও দেখা যায়।

অন্যদিকে, রক্তবমির ক্ষেত্রে রক্ত সাধারণত গাঢ় বাদামি, কালচে বা কফির গুঁড়ার মতো হয়। এটি পাকস্থলীর অ্যাসিডের সঙ্গে মিশে এমন রঙ ধারণ করে। রক্তবমির আগে সাধারণত বমি বমি ভাব বা পেটব্যথা থাকে এবং খাবারের কণা বা পাকস্থলীর তরলও মিশে যেতে পারে।

প্রধান কারণসমূহ

ফুসফুসের সংক্রমণ:

  • যক্ষ্মা (টিবি): বাংলাদেশে রক্তকাশির অন্যতম প্রধান কারণ। দীর্ঘস্থায়ী কাশি, বিকেলের দিকে জ্বর, ওজন কমে যাওয়া, খাওয়ার অরুচি এবং রক্তকাশি এর সাধারণ লক্ষণ।
  • নিউমোনিয়া: ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে ফুসফুসে প্রদাহ হয়। এতে হঠাৎ জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা এবং কফের সঙ্গে মরিচা রঙের রক্ত দেখা যেতে পারে।
  • ফুসফুসের ফোড়া: দুর্গন্ধযুক্ত কফের সঙ্গে রক্ত আসতে পারে।

ব্রঙ্কিয়েকটেসিস:
এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ, যেখানে শ্বাসনালিগুলো স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রসারিত হয়ে যায়। এতে কফ জমে সংক্রমণ হয় এবং দীর্ঘদিন কাশি, অতিরিক্ত কফ, শ্বাসকষ্ট ও মাঝে মাঝে রক্তকাশি দেখা দেয়।

অন্যান্য কারণ:

  • ফুসফুসের ক্যানসার: বিশেষ করে বয়স্ক ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী কাশি, ওজন কমা ও কাশির সঙ্গে রক্ত দেখা দিতে পারে।
  • আঘাত: পাঁজর বা ফুসফুসে আঘাতজনিত ক্ষতি।
  • পালমোনারি এমবোলিজম: ফুসফুসের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা ও রক্তকাশি দেখা দিতে পারে—এটি একটি জরুরি অবস্থা।
  • হৃদরোগ ও রক্তজনিত সমস্যা: মাইট্রাল স্টেনোসিস, রিউমেটিক ফিভারের জটিলতা, বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ (যেমন অ্যাসপিরিন, ক্লোপিডোগ্রেল) এবং লিউকেমিয়া বা হেমোফিলিয়ার মতো রোগেও রক্তপাত হতে পারে।

করণীয়

কাশির সঙ্গে রক্ত দেখা গেলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা, বুকের এক্স–রে এবং অন্যান্য ডায়াগনস্টিক টেস্ট করে সঠিক কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু করতে হবে।

— ডা. এ কে এম মূসা
অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ
চেম্বার: আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর–১০, ঢাকা