কারিগরি জটিলতায়’ আটকে খালেদা জিয়ার লন্ডন যাত্রা: কাতারের ব্যবস্থাপনায় জার্মানির এয়ার অ্যাম্বুলেন্সও আসছে দেরিতে – Uttorpatro TV

কারিগরি জটিলতায়’ আটকে খালেদা জিয়ার লন্ডন যাত্রা: কাতারের ব্যবস্থাপনায় জার্মানির এয়ার অ্যাম্বুলেন্সও আসছে দেরিতে

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ডিসেম্বর ৫, ২০২৫

অনলাইন ডেক্স


বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার উদ্যোগ আবারও জটিলতায় পড়েছে। কাতার সরকারের ব্যবস্থাপনায় জার্মানি থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় আসার কথা থাকলেও তা নির্ধারিত সময়ে নাও পৌঁছাতে পারে বলে জানা গেছে।

শুক্রবার বিকেলে ঢাকায় কাতার দূতাবাসের জনসংযোগ কর্মকর্তা আসাদুর রহমান আসাদ নিশ্চিত করেছেন, কাতার সরকার জার্মানি থেকে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেছে। তবে সেটি শনিবার ঢাকায় পৌঁছাবে কি না—তা এখনো অনিশ্চিত। তিনি জানান, “এয়ার অ্যাম্বুলেন্স শনিবার আসার যে প্রস্তুতি, সেটা এখনো নেওয়া হয়নি। খালেদা জিয়ার মেডিকেল টিমের ওপর বিষয়টা নির্ভর করছে। তবে শনিবার আসছে না—এটা মোটামুটি নিশ্চিত।”

দূতাবাসের প্রাথমিক ধারণা ছিল শনিবার বিকালে বিমানটি ঢাকায় পৌঁছাতে পারে। তবে একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, প্রক্রিয়ায় আরও বিলম্ব হতে পারে।

এর আগে পরিকল্পনা ছিল—কাতারের আমিরের বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়া হবে। কিন্তু ‘কারিগরি জটিলতা’ দেখা দেওয়ায় বিকল্পভাবে জার্মানির এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এখনো কোনো এয়ার অ্যাম্বুলেন্স নামানোর শিডিউল চাওয়া হয়নি। ফলে তাদের পক্ষেও প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিন সকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও জানান, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের কারিগরি ত্রুটির কারণে যাত্রা বিলম্বিত হয়েছে। “সব ঠিক থাকলে শনিবার পৌঁছাতে পারে। ম্যাডামের শারীরিক অবস্থা উপযুক্ত থাকলে এবং মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত দিলে ইনশাল্লাহ ৭ তারিখ উনি ফ্লাই করবেন,” বলেন তিনি।

এদিকে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৩ ঘণ্টার দীর্ঘ আকাশযাত্রা সম্ভব কি না—এ নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। সিদ্ধান্ত পুরোপুরি নির্ভর করছে মেডিকেল বোর্ডের ওপর।

খালেদা জিয়া গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বৃহস্পতিবার মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত দেয়—তার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যুক্তরাজ্যে নেওয়া জরুরি। তখনই কাতারের আমিরের এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারের বিষয়টি আসে।

এ ছাড়া খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য চীনেও নেওয়ার প্রস্তাব এসেছিল বলে বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে। চীন এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতেও আগ্রহী ছিল। তবে তার বড় ছেলে তারেক রহমান লন্ডনেই চিকিৎসার পক্ষে মত দেন, কারণ কাতারের আমিরের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকায় থেকে সরাসরি লন্ডনে যেতে পারে—মাঝপথে কোথাও জ্বালানি নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

উল্লেখ্য, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করেই চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। চিকিৎসা শেষে প্রায় চার মাস পর গত ৬ মে একই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তিনি দেশে ফেরেন।