যবিপ্রবির হলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীকে মারধর, ফেটে গেল কানের পর্দা - Uttorpatro TV

যবিপ্রবির হলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীকে মারধর, ফেটে গেল কানের পর্দা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: October 3, 2026

​নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি):
​যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শহীদ মসিযূর রহমান হলে একটি সাধারণ বালতি সরিয়ে রাখাকে কেন্দ্র করে ঘটা তুচ্ছ বিরোধের জেরে এক শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই হামলায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর কানের পর্দা ছিদ্র হয়ে রক্তক্ষরণের ঘটনা ঘটেছে।
​অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগী উভয় শিক্ষার্থীই যবিপ্রবির শহীদ মসিযূর রহমান হলের আবাসিক বলে জানা গেছে।
​ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে:
জানা যায়, গত শুক্রবার হলের গোসলখানায় যাওয়ার সময় এক শিক্ষার্থী অন্যের একটি বালতি সরিয়ে বাইরে রাখেন। গোসল শেষে নিজের রুমে ফিরে আসার পর বালতির মালিক এসে দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন এবং ভুক্তভোগীকে রুমে গিয়ে অকথ্য ভাষায় বকাঝকা ও একপর্যায়ে মাটিতে পুঁতে ফেলার হুমকি দেন। এ নিয়ে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
​দরবার ও অতর্কিত হামলা:
পরবর্তীতে গত কাল বিকেলে বিষয়টি মীমাংসা করার কথা বলে আরেক শিক্ষার্থী ৮-১০ জন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে ভুক্তভোগীকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠের দিকে নিয়ে যান। সেখানে বসে আলোচনার একপর্যায়ে বালতির মালিক ক্ষিপ্ত হয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর কানে সজোরে চড় মারেন এবং বুকে লাথি মারেন। শারীরিক এই নির্মম নির্যাতনে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অচেতন হয়ে পড়েন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
​চিকিৎসকদের ভাষ্য ও বর্তমান অবস্থা:
ঘটনার পর পরই সহপাঠীরা ভুক্তভোগীকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত আঘাতের ফলে ওই শিক্ষার্থীর কানের পর্দা ছিদ্র হয়ে গেছে এবং ভেতর থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
​অনুসন্ধানে জানা যায়, ভুক্তভোগী এই শিক্ষার্থী অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তার বাবা একজন দিনমজুর এবং তিনি পরিবারের জেষ্ঠ্য সন্তান, অনেক কষ্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
​বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি উচ্চশিক্ষালয়ে এমন ন্যাক্কারজনক ও সন্ত্রাসী হামলায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে—এমনটাই দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
​এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রশাসন বা প্রক্টরিয়াল বডির কোনো বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে।