ছবিঃ উত্তরপত্র

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের মান, পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের প্লেটে কুকুরের মুখ দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে ক্যাফেটেরিয়ার ভেতরের নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সেখানে খাবার পরিবেশন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনায় যথাযথ পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের খাবার গ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের প্লেটে কুকুরের মুখ দেওয়ার ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশেষভাবে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, এমন ঘটনা শুধু ক্যাফেটেরিয়ার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাই প্রকাশ করে না, বরং শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে নিয়ে আসে। খাবারের সঙ্গে প্রাণীর সংস্পর্শ ঘটলে সেটি স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, ক্যাফেটেরিয়ার সামগ্রিক পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরেই সন্তোষজনক নয়। নোংরা পরিবেশ, দুর্গন্ধ এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাবের কারণে সেখানে খাবার গ্রহণ অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। ক্যাফেটেরিয়ার পরিচ্ছন্নতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে কি না, সেটিও জানতে চেয়েছেন তারা।
এ ঘটনায় ক্যাফেটেরিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক চার্লস ডারউইনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একাধিক পদে দায়িত্ব পালন করা পরিচালকের অবহেলা ও যথাযথ তদারকির অভাবকে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন তারা। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ পরিচালকের অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে কেউ কেউ তাঁর কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ক্যাফেটেরিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবা ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নিয়মিত তদারকি থাকা প্রয়োজন। খাবারের মান, রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা, খাবার সংরক্ষণ, পরিবেশন ব্যবস্থা এবং ক্যাফেটেরিয়ার সার্বিক পরিবেশ—সবকিছু নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা উচিত। পাশাপাশি কোনো অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা ধরা পড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিষয়টি নিয়ে ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক চার্লস ডারউইনের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও পরিচালকের অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ঘটনাটি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে বলে জানা গেছে। উপাচার্য জানিয়েছেন, পরিচালকের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। ভবিষ্যতে তিনি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন উপাচার্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবা কেন্দ্র। বিশেষ করে আবাসিক ও দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ক্যাম্পাসে খাবারের জন্য ক্যাফেটেরিয়ার ওপর নির্ভর করেন। তাই সেখানে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক প্রত্যাশা।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাফেটেরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শুধু সাময়িকভাবে ব্যবস্থা নিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। বরং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, খাবারের মান যাচাই এবং প্রাণীর প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি খাবার তৈরির স্থান ও পরিবেশনস্থল নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ শুধু শ্রেণিকক্ষ ও একাডেমিক কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের খাবার, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন সেবার মানও ক্যাম্পাস জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় এমন কোনো পরিস্থিতি থাকা উচিত নয়, যা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন করে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা তাদের। একই সঙ্গে ক্যাফেটেরিয়ার ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, ক্যাফেটেরিয়ার পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তদারকি আরও জোরদার করা হবে।