রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী এক নিষ্পাপ শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা ও মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সরকার। এই জঘন্যতম অপরাধের রহস্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) আইন মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র গণমাধ্যমকে এই নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, সমাজের বুক থেকে এমন পাশবিকতা দূর করতে এবং এই নৃশংস ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারকাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে সরকার সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ফাইল ছবি: বাসস
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা (৩৪) ইতিমধ্যে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে। গতকাল বুধবার তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে সে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানায়, প্রথমে সে শিশুটিকে পাশবিকভাবে ধর্ষণ করে এবং পরবর্তীতে ঘটনা ধামাচাপা দিতে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। শুধু তাই নয়, নিজের নৃশংস অপরাধের প্রমাণ চিরতরে মুছে ফেলা এবং মরদেহটি সহজে সরিয়ে ফেলার উদ্দেশ্যে সে লাশটি টুকরো টুকরো করার চেষ্টাও করেছিল। আদালত জবানবন্দি গ্রহণ শেষে সোহেল রানা এবং এই অপরাধে সহায়তার অভিযোগে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্লবীর একটি আবাসিক ভবনের তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে ওই শিশুটির খণ্ডিত ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার অভিযানের সময় ভবনের জানালার গ্রিল কেটে অলৌকিকভাবে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় প্রধান ঘাতক সোহেল রানা। তবে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয়। পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ডিএমপির একটি বিশেষ দল একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল পলাতক আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতেই নিহত শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বশত্রুতা বা বিকৃত মানসিকতা থেকে তার ফুটফুটে কন্যাসন্তানটিকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পুরো পল্লবী এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দা এবং নিহতের স্বজনরা অবিলম্বে এই নরপিশাচের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ শাস্তি তথা ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।
আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মামলাটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে যাতে কোনো আইনি ফাঁকফোকর গলে আসামিরা পার পেয়ে যেতে না পারে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কারণে সাধারণ মানুষও আশা করছেন, খুব দ্রুতই শিশুটির পরিবার ন্যায়বিচার পাবে।