স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতীক না থাকলেও এক প্রার্থীকে সমর্থন দেবে বিএনপি: মীর শাহে আলম - Uttorpatro TV

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতীক না থাকলেও এক প্রার্থীকে সমর্থন দেবে বিএনপি: মীর শাহে আলম

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: September 11, 2026
ছবিঃ সংগৃহীত

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ও দলীয় মনোনয়ন দেয়ার আইনি সুযোগ না থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ে একক প্রার্থীকে সমর্থন জানানোর কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। দেশের সব ইউনিয়নে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা সাপেক্ষে দল-সমর্থিত একক প্রার্থী নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তৃণমূলকে বিশেষ সাংগঠনিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। ঢাকার সচিবালয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সরকারের ও দলের এই অবস্থানের কথা পরিষ্কার করেন। অনুষ্ঠানে একই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানও উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। ফলে যেকোনো নাগরিক আইনি যোগ্যতা পূরণ করে অবাধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। তবে নির্বাচনে প্রার্থী আধিক্য এড়িয়ে দলীয় ঐক্য সুসংহত রাখতে মাঠপর্যায়ে কৌশলগত সমর্থন দেবে বিএনপি। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়নপর্যায়ের প্রার্থীদের চূড়ান্ত নির্বাচনের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা বিএনপিকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। দলের উচ্চপর্যায় থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যাতে স্থানীয় নেতাকর্মীরা নিজেরা ঐক্যবদ্ধ থেকে প্রতি ইউনিয়নে একজন করে যোগ্য প্রার্থীকে সমন্বিতভাবে সমর্থন জানান।

অন্যান্য দল বা প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে বিএনপি কোনো বাধা তৈরি করবে কি না—এমন প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে সরকারের আলাদা কোনো নেতিবাচক অবস্থান থাকবে না। দেশের আইনানুযায়ী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করার ন্যূনতম যোগ্যতা যার থাকবে, তিনিই সাধারণ প্রার্থী হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। এটি মূলত একটি নিরপেক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা, যেখানে নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পরিচালনা করতে সার্বিক প্রাতিষ্ঠানিক সাহায্য-সহযোগিতা জোগাবে সরকার।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রশাসনের সর্বোচ্চ ভূমিকা থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন প্রতিমন্ত্রী। প্রতিটি বৈধ প্রার্থী যাতে নির্ভয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারেন এবং ভোটাররা যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে পরিবেশ তৈরিতে সরকার বদ্ধপরিকর। এই নির্বাচনকে কোনো একক দলীয় পুনর্বাসনের মাধ্যম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। পরিশেষে তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সরাসরি কঠোর নির্দেশনা রয়েছে যেন নির্বাচন প্রক্রিয়া পুরোপুরি হস্তক্ষেপমুক্ত এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সুসংগঠিত হয়।