প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারী মারা গেলেন হাসপাতালে - Uttorpatro TV

প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারী মারা গেলেন হাসপাতালে

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: September 4, 2026

বগুড়ার শিবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ফিরোজা বেগম (৫৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শুক্রবার সকালে মোকামতলা-জয়পুরহাট সড়কের গোপীনাথপুর এলাকায় জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর গাড়ির সঙ্গে ধাক্কায় আহত হন তিনি। পরে তাকে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা পৌনে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার বাসভবন থেকে জয়পুরহাটের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। তাদের বহরে সামনে একটি পুলিশ প্রটেকশনের গাড়িও ছিল।

গোপীনাথপুর এলাকায় পৌঁছানোর পর রাস্তা পার হওয়ার সময় হঠাৎ ফিরোজা বেগম প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির সামনে চলে আসেন। এ সময় গাড়ির সঙ্গে তার ধাক্কা লাগে এবং তিনি সড়কের ওপর পড়ে যান। দুর্ঘটনায় তার ডান পা ভেঙে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ফিরোজা বেগমকে রক্ষা করতে গিয়ে গাড়িচালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। পরে প্রতিমন্ত্রীর গাড়িটি সড়কের ডান পাশের একটি খাদে পড়ে যায়। এতে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এবং তার স্ত্রীও সামান্য আহত হন।

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে স্থানীয় লোকজন এবং পুলিশ প্রটেকশনের সদস্যরা দ্রুত এগিয়ে আসেন। তারা খাদে পড়ে যাওয়া গাড়ি থেকে প্রতিমন্ত্রী ও তার স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। পরে তারা পুলিশ প্রটেকশনের গাড়িতে করে জয়পুরহাটের দিকে রওনা হন।

অন্যদিকে গুরুতর আহত ফিরোজা বেগমকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েক ঘণ্টা পর তার মৃত্যু হয়।

নিহত ফিরোজা বেগম শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মৃত নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুজ্জামান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নারী আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, ফিরোজা বেগমের মরদেহ হাসপাতালের পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে উপস্থিত রয়েছেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে রাস্তা পারাপারের সময় ওই নারী কীভাবে প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির সামনে চলে এলেন এবং দুর্ঘটনার পর কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়, তা নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা চলছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির সামনে থাকা পুলিশ প্রটেকশনের গাড়ি এবং ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন। এতে প্রতিমন্ত্রী ও তার স্ত্রীকে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।

সড়কে যানবাহনের চাপ এবং পথচারীদের অসতর্ক রাস্তা পারাপার অনেক সময় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে মহাসড়ক বা ব্যস্ত সড়কে পারাপারের ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার সৃষ্টি করতে পারে। গোপীনাথপুরের এই ঘটনাও তেমনই একটি দুর্ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে।

তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এতে কার কী ধরনের দায় রয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে। নিহতের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে পুলিশ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

এদিকে ফিরোজা বেগমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হাসপাতাল ও স্থানীয় পর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন। মরদেহের পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে।

একই দুর্ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী ও তার স্ত্রী সামান্য আহত হলেও তারা পরে নিরাপদে জয়পুরহাটের উদ্দেশে রওনা হন। তবে তাদের গাড়ির ধাক্কায় আহত ফিরোজা বেগমকে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

বগুড়ার শিবগঞ্জে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় একজন পথচারীর মৃত্যু আবারও ব্যস্ত সড়কে নিরাপদে চলাচল ও রাস্তা পারাপারের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। দুর্ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানানো হয়েছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানা যাবে।