বগুড়ার দুটি পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সরকারীকরণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো গাবতলী পাইলট উচ্চবিদ্যালয় এবং শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান দুটিকে সরকারি বিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়কে গত ২৫ আগস্ট থেকে সরকারি করা হয়েছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটির সরকারি নাম হবে ‘শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়’।
অন্যদিকে, বগুড়ার গাবতলী উপজেলার গাবতলী পাইলট উচ্চবিদ্যালয়কে ২৭ আগস্ট থেকে সরকারীকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারীকরণের পর প্রতিষ্ঠানটির নাম হবে ‘গাবতলী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়’।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা দুই প্রজ্ঞাপনেই প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও কর্মচারীদের আত্তীকরণের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারি কাঠামোর আওতায় আত্তীকরণ করা হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আত্তীকৃত শিক্ষক ও কর্মচারীদের চাকরি বদলিযোগ্য হবে না। অর্থাৎ সরকারীকরণের পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মচারীরা যে প্রতিষ্ঠানে আত্তীকৃত হবেন, সেখানেই তাদের চাকরি বহাল থাকবে।
বগুড়ার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারীকরণের ফলে স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্যও সরকারীকরণের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারীকরণের ফলে প্রশাসনিক কাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির সুযোগ-সুবিধা এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসে। একই সঙ্গে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়মিত সরকারি নীতিমালা ও বিধিবিধানের আওতায় পরিচালিত হবে বিদ্যালয় দুটি।
শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সরকারীকরণের কার্যকর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ আগস্ট। আর গাবতলী পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের সরকারীকরণ কার্যকর হয়েছে ২৭ আগস্ট থেকে। ফলে নির্ধারিত তারিখ থেকেই প্রতিষ্ঠান দুটি সরকারি বিদ্যালয়ের মর্যাদা পেয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে সরকারীকরণের বিষয়টি জানানো হলেও প্রতিষ্ঠান দুটির অবকাঠামো, শিক্ষার্থী সংখ্যা বা ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে শিক্ষক ও কর্মচারীদের আত্তীকরণ প্রক্রিয়া প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।
বগুড়া জেলার গাবতলী ও শিবগঞ্জ উপজেলার শিক্ষার্থীদের জন্য স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সরকারীকরণের ফলে প্রতিষ্ঠান দুটির শিক্ষা কার্যক্রম আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও সরকারি কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হলো।
বিশেষ করে শিক্ষক-কর্মচারীদের আত্তীকরণের বিষয়টি সরকারীকরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্টদের চাকরি সরকারি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তবে তাদের চাকরি অন্যত্র বদলির সুযোগ থাকবে না।
সরকারীকরণের সিদ্ধান্তের পর এখন পরবর্তী ধাপে শিক্ষক-কর্মচারীদের আত্তীকরণ, প্রশাসনিক কার্যক্রম হস্তান্তর এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা হবে। এসব কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
বগুড়ায় একই দিনে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারীকরণের খবর স্থানীয় শিক্ষা অঙ্গনে গুরুত্ব পেয়েছে। দীর্ঘদিনের বেসরকারি ব্যবস্থাপনা থেকে সরকারি কাঠামোয় আসায় প্রতিষ্ঠান দুটির প্রশাসনিক কার্যক্রমেও নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এখন ‘শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়’ এবং গাবতলী পাইলট উচ্চবিদ্যালয় এখন ‘গাবতলী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়’। শিক্ষক-কর্মচারীদের আত্তীকরণসহ পরবর্তী সব কার্যক্রম প্রচলিত সরকারি বিধিবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হবে।