সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির খবর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ আরোপ করা হবে না বলে স্পষ্ট করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত আমানতকারীরা যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের হিসাব থেকে মূল অর্থ তুলতে পারেন, সে বিষয়েও ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার সাক্ষাৎ করেন। এ সময় ব্যাংকটির আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন গভর্নর।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, ড. মো. কবির আহমেদ, মো. সরোয়ার হোসেন ও মো. আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী ইতোমধ্যে জানিয়েছেন যে আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ থাকবে না। তবে বিষয়টি নিয়ে আমানতকারীদের একটি অংশের মধ্যে এখনো বিভ্রান্তি বা অস্পষ্টতা রয়েছে।
এ কারণে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সব আমানতকারীকে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানাতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, আমানতকারীদের প্রাপ্য মুনাফা থেকে কোনো অংশ কেটে নেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে না—এ বিষয়টি গ্রাহকদের কাছে স্পষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর।
ব্যাংক খাতে আমানতকারীদের আস্থা ধরে রাখার ক্ষেত্রে এ ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব গ্রাহক নিজেদের সঞ্চয় ও মুনাফা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন, তাদের জন্য বিষয়টি কিছুটা স্বস্তি তৈরি করতে পারে।
শুধু মুনাফার বিষয়ে আশ্বাস নয়, ব্যক্তিগত আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রেও নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তিগত আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের বিভিন্ন হিসাব থেকে মূল অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।
এর মধ্যে রয়েছে ‘আল-ওয়াদিয়াহ’ চলতি হিসাব, ‘মুদারাবা’ সঞ্চয়ী হিসাব এবং ‘মুদারাবা’ মেয়াদি আমানত।
ব্যক্তিগত গ্রাহকদের দৈনন্দিন প্রয়োজন, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা অন্যান্য আর্থিক চাহিদা মেটাতে আমানতের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নির্দিষ্ট হিসাব থেকে মূল অর্থ উত্তোলনের ব্যবস্থা চালু হলে গ্রাহকদের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে ঘোষিত নীতিমালার ভিত্তিতেই ইতোমধ্যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। সেই ধারাবাহিকতায় এখন ব্যক্তিগত আমানতকারীদের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে আমানতকারীদের বিষয়টি যথাযথভাবে অবহিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এতে আমানতকারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে থাকা অনিশ্চয়তা কমবে এবং ব্যাংকের সঙ্গে গ্রাহকদের সম্পর্কেও আস্থা বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে দ্রুত স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।
ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আমানতকারীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া, হিসাব পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা সচল রাখার বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
ব্যাংকিং খাতে গ্রাহকদের আস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনো ব্যাংকের কার্যক্রমে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর নয়, সামগ্রিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া এবং ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক করার উদ্যোগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ নির্দেশনার ফলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তিগত আমানতকারীদের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। প্রথমত, তাদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ থাকবে না। দ্বিতীয়ত, ১ সেপ্টেম্বর থেকে নির্দিষ্ট ধরনের হিসাবের মূল অর্থ প্রয়োজন অনুযায়ী উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হবে।
এ ছাড়া ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত ফিরিয়ে আনার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে ব্যাংকটির সেবা ও লেনদেন পরিস্থিতিতে আরও স্বাভাবিকতা আসবে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে এসেছে। বিশেষ করে মুনাফা নিয়ে আশঙ্কা দূর করা এবং মূল আমানত উত্তোলনের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রাহকদের আর্থিক অনিশ্চয়তা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।