তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করার অভিযোগে দুই নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত ওই দুই ইরানি নাগরিক দেশটির অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপনীয় সামরিক এবং নিরাপত্তা স্থাপনার ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক (কো-অর্ডিনেটস) ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাচার করছিলেন। বিশেষ করে আঞ্চলিক যুদ্ধাবস্থা ও চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তারা এসব কৌশলগত তথ্য শত্রুপক্ষের হাতে তুলে দেন বলে তেহরানের বিচার বিভাগীয় সূত্রে জানানো হয়েছে।
ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দীর্ঘ নজরদারির পর ওই দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, তারা দুজনই সরাসরি ইসরায়েলি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছিলেন এবং নির্দিষ্ট কিছু সামরিক ঘাঁটির তথ্য আদান-প্রদান করছিলেন। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সব তথ্য-প্রমাণ ও বিচারিক প্রক্রিয়া পর্যালোচনা শেষে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন, যা সম্প্রতি কার্যকর করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ভেতরে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা, বিশেষ করে ইসরায়েলের মোসাদের তৎপরতা বৃদ্ধির অভিযোগ এনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান। যেকোনো মূল্যে জাতীয় নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখতে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে বার্তা দিয়েছে দেশটি।
এদিকে, চলমান এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে বিশেষ করে জানুয়ারি মাসের দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও পরবর্তী ঘটনাবলীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ২৬ জনের মৃত্যুদণ্ড ইতিমধ্যেই কার্যকর করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ইরান সরকার জাতীয় নিরাপত্তার নামে অস্পষ্ট ও ব্যাপক পরিধির আইন প্রয়োগ করছে। বিশেষ করে ‘গুপ্তচরবৃত্তি’, ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা’ কিংবা ‘শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা’ করার মতো অভিযোগ এনে বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করেই তড়িঘড়ি সাজা দেওয়া হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো দাবি করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের ছায়াযুদ্ধ এখন প্রকাশ্যে রূপ নেওয়ার মুখে। বিশেষ করে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে প্রত্যক্ষ সংঘাতের পর থেকে দেশ দুটির অভ্যন্তরে গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রতি-গোয়েন্দা কার্যক্রম বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভেতরে থাকা তথ্যফাঁসকারীদের দ্রুত সাজা দিয়ে ইরান মূলত নিজ দেশে একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা পাঠাতে চাইছে। তবে একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলে এই বিচার প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে।