কারাগারে নিজের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে আরও বেশি সময় যোগাযোগের সুযোগ চেয়ে আদালতে বক্তব্য দিয়েছেন সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ৯৮টি মামলা রয়েছে এবং এসব মামলার মধ্যে তিনি ৯৯ দিন রিমান্ডে ছিলেন।
রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলমের আদালতে হাজির করা হলে শুনানির একপর্যায়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন পলক। এ সময় তিনি কারাগারে তার বর্তমান পরিস্থিতি ও যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার কথা আদালতকে জানান।
আদালতের উদ্দেশে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ঘাড়ে আঘাতের কারণে চিকিৎসক তাকে হেলমেট না পরার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে ৯৮টি মামলা রয়েছে এবং ৯৯ দিন রিমান্ডে ছিলেন। বর্তমানে তিনটি মামলার বিচার কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে একটি মামলায় আইসিটি ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে বলেও আদালতকে জানান তিনি।
পলক আরও বলেন, ১৫ দিনে মাত্র আধা ঘণ্টা পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান তিনি। এ কারণে আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত সময় কথা বলার সুযোগ চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন জানান সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি দুই সপ্তাহে অন্তত দুই দিন আইনজীবীদের সঙ্গে বিশেষভাবে কথা বলার অনুমতি চান তিনি। প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়ারও আবেদন জানান পলক।
এদিন জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মালবাহী ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য ছিল। মামলায় কারাগারে আটক জুনাইদ আহমেদ পলকসহ অন্যান্য আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়।
শুনানির সময় পলকের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি ‘প্রিভিলেজড কমিউনিকেশন’ সুবিধা চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত কারাবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অন্য আসামিদের সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ১৩ আগস্ট দিন ধার্য করেন।
মামলাটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৩৪ জন আসামি রয়েছেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মালবাহী ট্রাকচালক মো. হোসেন নিহত হন। ওই ঘটনায় সাজ্জাদ ও শাহিন নামে আরও দুই ব্যক্তি আহত হন।
পরে নিহত মো. হোসেনের স্ত্রী মোছা. রীনা বেগম ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ২৩ নভেম্বর মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক মো. আকরামুজ্জামান আদালতে ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
এ ছাড়া মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানসহ আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
আদালতে পলকের বক্তব্যের পর তার আইনজীবীর করা বিশেষ যোগাযোগ সুবিধার আবেদনটি কারাবিধি অনুযায়ী বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি আগামী ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে মামলাটি জুলাই আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চলমান রয়েছে। অভিযোগ গঠন শুনানি শেষ হলে মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারপর্বে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।