মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তিবিষয়ক পরামর্শ সভার আয়োজন করে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অধিকার। সেখানে বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনেছবি: মহিউদ্দিন ফারুক

ঢাকা: জাতীয় সংসদের আগামী নিয়মিত অধিবেশনেই দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য কোনো বিশেষ অধিবেশন ডাকার মতো জরুরি অবস্থা এখনো তৈরি হয়নি।
শনিবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে মানবাধিকার বিষয়ক এক পরামর্শ সভা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা জানান। মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ আয়োজিত ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ খালি হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠান করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
হিসাব তুলে ধরে তিনি বলেন, “গতকাল ছিল ২৪ জুলাই। সেই হিসাব অনুযায়ী আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সংবিধান নির্ধারিত সময়সীমা বহাল রয়েছে। অন্যদিকে, গত ১৫ জুলাইয়ের পর থেকে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে সংসদের নিয়মিত অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে আশা করা যাচ্ছে, সেই নিয়মিত অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি চূড়ান্ত ও নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।”
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হয়।
সম্প্রতি পদত্যাগ করা সাবেক রাষ্ট্রপতির অতীত কর্মকাণ্ড এবং তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সম্মুখীন হন আইনমন্ত্রী। মামলাটি বিচারযোগ্য কি না কিংবা এর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে এখনই তাড়াহুড়ো করার সুযোগ নেই।
আইনমন্ত্রী বলেন, “আইনে যখন ব্যাখ্যার প্রয়োজন আসবে, তখনই বিষয়টি দেখা যাবে। ইট ইজ টু আর্লি (এখনই মন্তব্য করা বেশ তড়িঘড়ি হয়ে যাবে)।” তিনি আরও যোগ করেন, সংবিধান ও দেশের প্রচলিত আইনে রাষ্ট্রপতি পদমর্যাদার ক্ষেত্রে কিছু আইনি সুরক্ষা বা প্রটেকশন নিশ্চিত করা আছে। বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এই সভায় দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি, অতীতে ঘটে যাওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
উদ্বোধনী পর্বে সম্মানিত অতিথি ও বক্তা হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন:
মো. আমিনুল ইসলাম: চিফ প্রসেকিউটর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী: সাবেক চেয়ারম্যান, গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন।
মাহমুদুর রহমান: সম্পাদক, দৈনিক আমার দেশ।
অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর প্রেসিডেন্ট তাসনিম সিদ্দিকী। সভায় বক্তারা বিগত সময়ের বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন।