‘ছাগল-কাণ্ডে’ আলোচিত মতিউরের ভাগ্য নির্ধারণ ২১ জুলাই, অভিযোগ গঠনের আদেশ ওইদিন - Uttorpatro TV এনবিআরের মতিউর রহমানের মামলার অভিযোগ গঠনের আদেশ ২১ জুলাই

‘ছাগল-কাণ্ডে’ আলোচিত মতিউরের ভাগ্য নির্ধারণ ২১ জুলাই, অভিযোগ গঠনের আদেশ ওইদিন

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: July 5, 2026
ছবিঃ সংগৃহীত

কোরবানি ঈদের আগে বিপুল মূল্যের ছাগল কেনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার আইনি প্রক্রিয়া নতুন মোড় নিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই এই বিষয়ে আদালত চূড়ান্ত আদেশ দেবেন বলে জানা গেছে।

আজ রোববার (৫ জুলাই) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক বি এম তারিকুল কবির দুই পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তি ও শুনানি গ্রহণ শেষে আদেশের জন্য এই দিন ধার্য করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম গণমাধ্যমকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে দেশের কারাগারে বন্দি থাকা মতিউর রহমানকে আজ কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়েছিল।

শুনানির শুরুতে মতিউর রহমানের আইনজীবী আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও বোরহান উদ্দিন তাদের মক্কেলকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করেন। তাঁরা আদালতের কাছে এই মামলা থেকে মতিউরের স্থায়ী অব্যাহতি বা খালাস চেয়ে আবেদন করেন। ডিফেন্স আইনজীবীদের দাবি, মতিউর রহমানের সমস্ত আয়কর নথি বা ট্যাক্স ফাইল সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে হালনাগাদ করা আছে। একটি বিশেষ মহলের উদ্দেশ্যমূলক ও সাজানো প্রচারণার শিকার হয়েছেন তিনি।

আইনজীবীদের বক্তব্যের পর আদালতের বিশেষ অনুমতি নিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কথা বলেন স্বয়ং মতিউর রহমান। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি আদালতকে বলেন, ‘আমাকে ফাঁসানোর জন্য একটি বড় চক্র সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছে। আমি কোনো ধরণের অন্যায় করিনি, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো দুর্নীতিও করিনি।’

অন্যদিকে, দুদকের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম আসামিপক্ষের এই অব্যাহতির আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাবেক এই রাজস্ব কর্মকর্তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। দুদকের আইনজীবী আদালতকে অবহিত করেন যে, সরকারের উচ্চপদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট ও পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ তদন্তে উঠে এসেছে। ফলে তার বিরুদ্ধে বিচার শুরু হওয়া আবশ্যক।

২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মতিউর রহমান এবং তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও আসল সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে দুদক। পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্ত শেষে চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি দুদকের পক্ষ থেকে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয়।

চার্জশিটের তথ্য অনুযায়ী, মতিউর রহমান তাঁর দাখিল করা প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদবিবরণীতে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান করে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়াও, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অপরাধলব্ধ আয়ের মাধ্যমে নিজের নামে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ২০০৪ সালের দুদক আইনের ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

২০২৩ সালের কোরবানি ঈদের আগে মতিউর রহমানের দ্বিতীয় পক্ষের ছেলে মুশফিকুর রহমানের ১৫ লাখ টাকা দিয়ে একটি উচ্চবংশীয় ছাগল কেনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই মতিউরের বিপুল ও বিলাসবহুল জীবনযাত্রার খবর বেরিয়ে আসে। দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ার পর ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) মতিউর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। এর পর থেকেই তিনি কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মতিউরের প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজের ছেলে ও মেয়ে দুজনেই বর্তমানে আইনি ঝামেলা এড়াতে বিদেশে পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে মেয়ে অবস্থান করছেন কানাডায়। এছাড়া মামলার অন্যতম আসামি মতিউরের দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মী আখতার শিবলীও (যার ছেলে ছাগল কিনেছিলেন) বর্তমানে দেশের বাইরে আত্মগোপনে আছেন বলে জানা গেছে।