
সরকারি যেকোনো অনুষ্ঠানের প্রচারণায় এক বড় ও নজিরবিহীন পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে সরকারি কোনো অনুষ্ঠানের প্রচারের উদ্দেশ্যে তৈরি ব্যানার, ফেস্টুন, ডিজিটাল ডিসপ্লে কিংবা বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করা যাবে না। ছবি ব্যবহারের এই নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রচারণামূলক উপকরণের নকশায় চটকদার ছবির চেয়ে অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য, বার্তা এবং বিষয়বস্তুকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার (৫ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে জারি করা এক বিশেষ পরিপত্রে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত এই পরিপত্রে বলা হয়েছে, নতুন এই নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা ওই পরিপত্রে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার, ফেস্টুন বা বিলবোর্ডে থ্রিডি (3D) কিংবা অন্য কোনো বিশেষ আঙ্গিকেও প্রধানমন্ত্রীর ছবি কোনোভাবেই ব্যবহার করা যাবে না। এর পরিবর্তে প্রচারণামূলক উপকরণের মূল নকশা এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে অনুষ্ঠানটি কেন আয়োজন করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে জনগণের কাছে কী বার্তা পৌঁছানো হচ্ছে, তা যেন সুস্পষ্ট ও আকর্ষণীয়ভাবে প্রতিফলিত হয়।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, যেকোনো ধরণের প্রচারণাসামগ্রী প্রস্তুতের ক্ষেত্রে ব্যক্তি-কেন্দ্রিক প্রচারণার চেয়ে অনুষ্ঠানের মূল বিষয়বস্তুকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য বা প্রায়োরিটি দিতে হবে। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয়, সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তথ্যবহুল উপাত্ত সেখানে উপস্থাপন করা নিশ্চিত করতে হবে। অযথা ছবি ব্যবহার করে প্রচারণার মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করা যাবে না।
নতুন এই সিদ্ধান্তটিকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দেশের প্রতিটি সরকারি স্তরকে এই নির্দেশনার আওতায় নিয়ে এসেছে। দেশের সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, সরকারি সংস্থা এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে এই নির্দেশনা পাঠিয়ে তা যথাযথভাবে ও কঠোরভাবে বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে। কোনো পর্যায়ে এর ব্যত্যয় ঘটলে তা নিয়মের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি অনুষ্ঠানগুলোতে প্রচারের নামে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রদর্শনীর যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, এই পরিপত্রের মাধ্যমে তাতে বড় ধরণের পরিবর্তন আসবে। এর ফলে সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি প্রচারণার মূল লক্ষ্য ও রাষ্ট্রীয় বার্তা জনগণের কাছে আরও সরাসরি পৌঁছাবে। ব্যানার বা ফেস্টুনের চাক্ষুষ সৌন্দর্যের চেয়ে তথ্যের গুণগত মান ও উপযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। সাধারণ মানুষও সরকারি প্রকল্পের মূল সুবিধা এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিভ্রান্তিহীনভাবে জানতে পারবে।
আজ থেকেই কার্যকর হওয়া এই নির্দেশনা দেশের প্রশাসনিক প্রচারণার ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন থেকে দেশের যেকোনো প্রান্তে অনুষ্ঠিত সরকারি সভায় বা প্রচারণায় এই নতুন নিয়ম মেনে ব্যানার ও ফেস্টুন তৈরি করতে বাধ্য থাকবেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।