বুধবার চীনের স্থানীয় সময় বেলা ১টা ৩০ মিনিটে দালিয়ান থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

গণচীন সফরের অংশ হিসেবে এবার দালিয়ান থেকে দেশটির রাজধানী বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থানকে আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে তার এই চীন সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
বুধবার (২৪ জুন) চীনের স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে দালিয়ান থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশে তাদের বহনকারী বিশেষ যানটি যাত্রা শুরু করে। বেইজিংয়ে সফরের পরবর্তী অংশে চীনের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনার কথা রয়েছে।
এর আগে, বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পূর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় চীনের দালিয়ানে অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন ‘দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে’ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে যোগ দেন। বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রভাবশালী হিসেবে বিবেচিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোসে’র বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন তিনি।
১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দি নিউ চ্যাম্পিয়নসের এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধানরা অংশ নিয়েছিলেন। সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু উরি বাহ, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলঝাস বেকতেনভ, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সেওক, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিয়াম-ওসর উচরাল এবং মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোইকো স্পাইজিচ। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নতুন চ্যাম্পিয়নদের এই মেলা অর্থনৈতিক সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বছরের ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলনে সারা বিশ্বের প্রায় ৯০টিরও বেশি দেশ ও আঞ্চলিক সীমানা থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ এবং প্রভাবশালী গণমাধ্যম অঙ্গনের ১,৭০০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি বা ডেলিগেট অংশগ্রহণ করেন। বৈশ্বিক অর্থনীতিকে গতিশীল করা, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে কীভাবে সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা যায়—তা নিয়ে এই সম্মেলনে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোসে’ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই জোরালো অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বল করবে। একই সাথে এই সম্মেলন থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে নতুন বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য আধুনিক কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ তৈরি করবে। বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর সেরা অর্থনৈতিক চর্চা বা ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’গুলো গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় সক্ষমতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী হবে।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে গত সোমবার (২২ জুন) চীনের দালিয়ানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও তার একটি ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দালিয়ানের কার্যক্রম সফলভাবে শেষ করে এখন বেইজিংয়ে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার নতুন সম্ভাবনা উন্মোচনের অপেক্ষায় রয়েছে পুরো দেশ।