পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা: রামিসার বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান - Uttorpatro TV "রামিসার নৃশংস হত্যাকাণ্ডে স্তব্ধ দেশ: ৭ দিনের মধ্যে তদন্তের নির্দেশ, রাতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী"

পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা: রামিসার বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ২১, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি

রাজধানীর মিরপুর সংলগ্ন পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু ও স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধ*র্ষণ ও নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পৈশাচিক এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া অবুঝ শিশুটির শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে আজ বৃহস্পতিবার রাতে তাদের পল্লবীর বাসভবনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই পূর্বনির্ধারিত বৈঠক সমাপ্ত করেই প্রধানমন্ত্রী সরাসরি রামিসার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এবং তাদের সান্ত্বনা দিতে পল্লবীর উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।

এদিকে রামিসাকে ধ*র্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার এই বর্বরোচিত ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছেন সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান আজ বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী।

ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

মামলার বিবরণী ও পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পল্লবীর একটি বহুতল ফ্ল্যাটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। নিহত রামিসার পিতা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একই ভবনের পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার অত্যন্ত কৌশলে রামিসাকে ডেকে তাদের নিজেদের কক্ষে নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর সময় হলে তার মা-বাবা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত দম্পতির ঘরের সামনে এসে মেয়ের জুতো ও উপস্থিতি টের পেয়ে তারা ডাকাডাকি শুরু করেন। ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে সন্দেহ দানা বাঁধে। পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতেই শিউরে ওঠেন সবাই। শয়নকক্ষের মেঝেতে পড়ে ছিল শিশু রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পাশেই পড়ে ছিল তার বিচ্ছিন্ন মাথা। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শিশুটিকে কক্ষে নেওয়ার সময় মূল অভিযুক্ত সোহেল রানার সাথে অজ্ঞাতপরিচয় আরও একজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিল।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা ও পুলিশের তৎপরতায় ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে গতকাল বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে হাজির করা হলে খুনি সোহেল রানা নিজের অপরাধ স্বীকার করে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। ম্যাজিস্ট্রেট তার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

নিজের জবানবন্দিতে মাদকাসক্ত সোহেল রানা যে বিবরণ দিয়েছে, তা সভ্য সমাজকে স্তব্ধ করে দেওয়ার মতো। সোহেল জানায়, তারা একই ভবনের এক তলায় পাশাপাশি তিনটি পরিবার বসবাস করত। ঘটনার দিন সকাল ৯টার দিকে শিশু রামিসাকে দেখার পর ইয়াবাাসক্ত সোহেলের মনে বিকৃত যৌন লালসার উদ্রেক হয়। সুযোগ বুঝে সে শিশুটিকে ফুসলিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে আসে এবং জোরপূর্বক বাথরুমে আটকে ধ*র্ষণ করে।

নির্যাতনের পর অবুঝ শিশু রামিসা যখন কান্না করতে করতে বলে যে সে এই ঘটনা তার মা-বাবাকে বলে দেবে, তখনই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সোহেল। অপরাধের কথা ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে সে বাথরুমের ভেতরেই রামিসার গলা টিপে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে।

জবানবন্দিতে খুনি আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরে ফিরে পুরো বিষয়টি জানতে পারেন। স্বামীকে আইনি হাত থেকে বাঁচাতে এবং লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে তারা দুজনে মিলে এক ভয়ংকর পরিকল্পনা করেন। একটি ধারালো ছুরি দিয়ে রামিসার মাথা কেটে শরীর থেকে আলাদা করা হয়। পাশবিকতার এখানেই শেষ নয়, শিশুটির যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধের কাছ থেকে আংশিক কেটে ফেলা হয়।

পরবর্তীতে বাথরুম থেকে লাশ এনে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। ঠিক এই সময়েই রামিসার মা বাইরে থেকে দরজায় নক করছিলেন। মূল আসামি সোহেল রানা যেন জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যেতে পারে, সেই সুযোগ করে দিতে স্ত্রী স্বপ্না আক্তার দীর্ঘ সময় ঘরের প্রধান দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে রাখেন। সোহেল পালিয়ে যাওয়ার পরই কেবল স্বপ্না দরজা খোলেন। এই পুরো নৃশংস হত্যাযজ্ঞ এবং আলামত গোপনের প্রক্রিয়ায় স্ত্রী স্বপ্না আক্তার সরাসরি স্বামীকে সহযোগিতা করেছিলেন বলে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।

এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো পল্লবী এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় ও সচেতন মহল এই নরপশুদের দৃষ্টান্তমূলক এবং দ্রুততম সময়ে ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নিহতের বাড়িতে গমন এবং আইনমন্ত্রীর দ্রুত তদন্তের নির্দেশনার পর দেশবাসী আশা করছে, এই মামলার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সম্পন্ন করে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।