‘আওয়ামী লীগ ব্যাক করেনি, তারা ছিলই’: মাহফুজের পর আসিফ নজরুলের স্ট্যাটাসে তোলপাড় - Uttorpatro TV ‘ব্যাক করেছে তাদের দম্ভ ও মিথ্যাচার’, আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন নিয়ে মুখ খুললেন আসিফ নজরুল

‘আওয়ামী লীগ ব্যাক করেনি, তারা ছিলই’: মাহফুজের পর আসিফ নজরুলের স্ট্যাটাসে তোলপাড়

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ২০, ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই আগস্ট গণ অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ‘প্রত্যাবর্তন’ বা ‘ফেরা’ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক দুই শীর্ষ ব্যক্তিত্বের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের একটি দীর্ঘ ও বিশ্লেষণাত্মক ফেসবুক পোস্টের পর, আজ বুধবার দুপুরে অপর সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল তার ফেসবুক পেজে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু কড়া বার্তা দিয়েছেন। দুই সাবেক সহকর্মীর এই বিপরীতমুখী বা ভিন্নধর্মী বক্তব্য নিয়ে এখন নেটিজেন ও রাজনৈতিক মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক আসিফ নজরুল আজ বুধবার দুপুরে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে লেখেন, “আওয়ামী লীগ ব্যাক করেনি, তারা ছিলই। ব্যাক করেছে তাদের দম্ভ, মিথ্যাচার আর মানুষকে বিভ্রান্ত করার দুঃসাহস।”

তার এই মাত্র তিন বাক্যের পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। প্রকাশের এক ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে এতে হাজার হাজার প্রতিক্রিয়া ও শত শত শেয়ার জমা পড়ে। নেটিজেনদের অনেকেই মনে করছেন, আসিফ নজরুলের এই মন্তব্য মূলত এর আগের দিন করা মাহফুজ আলমের দীর্ঘ পোস্টের একটি পরোক্ষ জবাব বা ভিন্নমত প্রকাশ।

আওয়ামী লীগ নিয়ে অধ্যাপক আসিফ নজরুলের ফেসবুক পোস্টছবি: পোস্টের স্ক্রিনশট

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম তার ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন। নির্বাচনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নেওয়ার তিন মাসেরও বেশি সময় পর দেওয়া এই পোস্টে তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হওয়ার আগে একটি ‘ধর্মতত্ত্ব’ এবং নির্দিষ্ট কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তারা দেশের রাজনীতিতে ‘ব্যাক’ বা ফিরে এসেছে।

মাহফুজ আলম তার পোস্টে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী পরিস্থিতি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু সিদ্ধান্তের সমালোচনাও তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২৪-এর আন্দোলনকে যখনই ৭১-এর মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে, তখনই আওয়ামী লীগ সুযোগ পেয়েছে। এছাড়া মাজার ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, গণহারে মব জাস্টিস বা মবের শাসনকে আনন্দ হিসেবে গ্রহণ করা এবং উগ্রবাদের উত্থানই মূলত আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে টিকে থাকার বা ফিরে আসার জ্বালানি জুগিয়েছে।

তিনি আরও লেখেন, ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধের মানুষেরা যখনই কোনো বিশেষ ঘরানার ডানপন্থার উত্থানে ভয় পেয়েছে, তখনই আওয়ামী লীগের আদর্শিক ভিত্তি বা ‘ইমান’ পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। এমনকি শাসন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের বদলে নামমাত্র সংস্কার ও ঐকমত্য কমিশনের কারণে সাধারণ মানুষের হতাশ হওয়াকেও তিনি দায়ী করেন। তার মতে, বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক দ্বন্দ্বে অন্তর্বর্তী সরকারের কৌশলী অবস্থানও আওয়ামী লীগের এই প্রত্যাবর্তনে ভূমিকা রেখেছে।

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছিল, সেখানে আসিফ নজরুল এবং তার ছাত্র মাহফুজ আলম দুজনেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তবে সরকার গঠনের পর এবং বর্তমান সময়ে এসে ক্ষমতাচ্যুত দলটিকে দেখার ক্ষেত্রে দুজনের দৃষ্টিভঙ্গির এই অমিল স্পষ্ট ধরা পড়েছে নেটিজেনদের চোখে।

মাহফুজ আলম যেখানে মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু ব্যর্থতা ও মব কালচারের কারণে সমাজে ফ্যাসিবাদের উপাদানগুলো আবার ফিরে আসার পথ তৈরি হয়েছে; সেখানে আসিফ নজরুল মনে করিয়ে দিয়েছেন, ফ্যাসিবাদী শক্তি মূলত কখনই পুরোপুরি মিলিয়ে যায়নি, বরং সুপ্ত অবস্থায় ছিল। এখন সুযোগ বুঝে তাদের পুরনো চেনা রূপ—দম্ভ, মিথ্যাচার ও অপপ্রচার নিয়ে তারা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার দুঃসাহস দেখাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির পোস্ট নিয়ে নানামুখী মন্তব্য দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, রাষ্ট্র সংস্কারের গতি এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই সন্ধিক্ষণে সাবেক উপদেষ্টাদের এমন প্রকাশ্য ভিন্নমত আগামী দিনের রাজনীতির জন্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।