দেশের প্রচলিত চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধে সংসদ সদস্যদের সদিচ্ছাকেই প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে দেখছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি মন্তব্য করেছেন, সংসদের ৩০০ জন সদস্য যদি সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেন যে তারা কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবেন না, তবে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি করার সাহস কারও থাকবে না।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর সেকশনের শাহ আলী পাইকারি কাঁচাবাজার পরিদর্শনে গিয়ে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ব্যবসায়ীদের সমস্যার কথা শোনেন।
বাজারের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শফিকুর রহমান বলেন, এই বিশাল আড়ত ও বিপণিবিতানগুলোতে এখনো দখলদারিত্ব এবং নীরব চাঁদাবাজি চলছে। ভয়ের সংস্কৃতি বিদ্যমান থাকায় সাধারণ ব্যবসায়ীরা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, “কারা এই চাঁদাবাজি করছে? তারা কেউ ভিনদেশ থেকে আসেনি। তারা আমাদের আশেপাশেই থাকে, আমাদের চেনা পরিচিত মুখ। অথচ তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে বলেই এটি বন্ধ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
বিরোধীদলীয় নেতা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির পেছনে প্রধান কারণ হলো অসাধু সিন্ডিকেট এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য। এর ফলে কৃষক ফসলের ন্যায্য দাম পায় না এবং সাধারণ ক্রেতাদের চড়া মূল্যে পণ্য কিনতে হয়। এই অশুভ চক্র ভাঙতে সংসদের ভেতরে এবং রাজপথে জামায়াতে ইসলামীর লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।
বাজার পরিদর্শনের সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেন। এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, সরকারিভাবে যে দোকান ৫ হাজার টাকায় বরাদ্দ দেওয়া হয়, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি তা দখল করে তৃতীয় পক্ষের কাছে ৬০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকায় ভাড়া দিচ্ছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও এই প্রথা বন্ধ হয়নি। মাদক ও সরাসরি চাঁদাবাজির যন্ত্রণার কথাও ব্যবসায়ীরা বিরোধীদলীয় নেতাকে জানান। এ সময় সত্য বলার জন্য কোনো ব্যবসায়ী বিপদে পড়লে জামায়াত তার পাশে থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন শফিকুর রহমান।
সবশেষে তিনি বলেন, সংসদ অধিবেশনে তিনি জনগণের দুঃখ-কষ্টের কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। জনগণকে সংগঠিত করে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতি থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বাজার পরিদর্শনে তাঁর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান) সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।