ঈদুল আজহা ২০২৬: চাহিদার চেয়ে ২২ লাখ বেশি পশু প্রস্তুত, সংকটের কোনো শঙ্কা নেই - Uttorpatro TV ঈদুল আজহায় নেই পশুর সংকট, উদ্বৃত্ত থাকছে ২২ লাখের বেশি গবাদিপশু

ঈদুল আজহা ২০২৬: চাহিদার চেয়ে ২২ লাখ বেশি পশু প্রস্তুত, সংকটের কোনো শঙ্কা নেই

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: May 11, 2026
ছবি- উত্তরপত্র টিভি

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের কুরবানিযোগ্য পশুর কোনো সংকট হবে না বলে আশ্বস্ত করেছে সরকার। এ বছর সম্ভাব্য চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজারের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। রোববার (১০ মে) দুপুরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই স্বস্তির খবর জানান মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালে দেশে কুরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। এর বিপরীতে দেশি খামারি ও কৃষকদের কাছে মোট ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। ফলে চাহি মিটিয়েও বাজারে পর্যাপ্ত পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার কুরবানিযোগ্য পশুর মধ্যে রয়েছে:

  • গরু ও মহিষ: ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি

  • ছাগল ও ভেড়া: ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি

  • অন্যান্য প্রাণী: ৫ হাজার ৬৫৫টি

সারাদেশে কুরবানির পশুর বেচাকেনার জন্য ৩ হাজার ৬০০-এর বেশি হাট বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১৬টি এবং দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১১টিসহ মোট ২৭টি অস্থায়ী হাট থাকবে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে প্রতিটি হাটে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম নিয়োজিত থাকবে যারা পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে।

মন্ত্রী স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, পশুবাহী ট্রাকে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না। মহাসড়কে পশু পরিবহনে কোনো বাধা সৃষ্টি করলে বা কৃত্রিম যানজট তৈরি করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এমনকি সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

দেশীয় খামারিদের লোকসান থেকে বাঁচাতে এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পশুর প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। মন্ত্রী জানান, এবার সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে কোনো পশুর হাট বসাতে দেওয়া হবে না। অতীতে বিদেশি পশুর কারণে দেশি খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও অনলাইনে পশু কেনাবেচার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে পশু কিনলে ক্রেতাকে কোনো ‘হাসিল’ বা খাজনা দিতে হবে না। এছাড়া কুরবানির পশুর চামড়া যাতে নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে কসাই ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে বা পরিবহনের সমস্যায় সহযোগিতার জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (হটলাইন: ১৬৩৫৮) চালু করেছে। পশু পরিবহনের ক্ষেত্রে সড়ক ও সেতুগুলোতে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।