ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তীব্র লোডশেডিং: বিদ্যুৎ না পেয়ে অভিযোগকেন্দ্রে ভাঙচুর, চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ - Uttorpatro TV

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তীব্র লোডশেডিং: বিদ্যুৎ না পেয়ে অভিযোগকেন্দ্রে ভাঙচুর, চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ২২, ২০২৬
চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের দাতিয়ারায় বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের অভিযোগকেন্দ্রে ভাঙচুর করেছেন গ্রাহকেরা চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের দাতিয়ারায় বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের অভিযোগকেন্দ্রে ভাঙচুর করেছেন গ্রাহকেরাছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পেয়ে জেলা শহরের দাতিয়ারায় বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের অভিযোগকেন্দ্রে ভাঙচুর করেছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জেলায় চাহিদার তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং করতে হচ্ছে, যা জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

বিতরণ বিভাগ-১ সূত্রে জানা গেছে, দাতিয়ারা, কাউতলী, ডিসি বাংলো, কাজীপাড়া, কান্দিপাড়া, শিমরাইলকান্দি, শেরপুর, পৈরতলা, উলচাপাড়া, গোকর্ণঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৭৩ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সেবার আওতায় রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় এক থেকে দুই ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন গ্রাহক অভিযোগকেন্দ্রের কাচের দরজা ভেঙে দেন।

অভিযোগকেন্দ্রের কর্মচারী খলিলুর রহমান জানান, রাত ১২টা ৩৫ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে ৩–৪ জন ব্যক্তি এসে দরজা ভেঙে চলে যায়। সে সময় অন্য কর্মীরা ট্রান্সফরমারের ফিউজ মেরামতে বাইরে ছিলেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

তথ্য অনুযায়ী, পিক আওয়ারে (বিকেল ৫টা–রাত ১১টা) বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৭–৩০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০–১১ মেগাওয়াট। অফ পিক সময়েও চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৬ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকছে। বুধবার দুপুরে ৩০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল মাত্র ১১ মেগাওয়াট—যা সংকটের গভীরতা স্পষ্ট করে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আটটি ১১ কেভি লাইনের মধ্যে গড়ে পাঁচটিতে সরবরাহ বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। একই চিত্র দেখা যাচ্ছে বিতরণ বিভাগ-২ এলাকাতেও, যেখানে প্রতিদিন ৭–৮ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী লতিফুর রহমান বলেন, চাহিদার তুলনায় অনেক কম সরবরাহ পাওয়ায় প্রতিটি এলাকায় এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।