আদানির এক ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং—চাহিদা মেটাতে হিমশিম পিডিবি - Uttorpatro TV

আদানির এক ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং—চাহিদা মেটাতে হিমশিম পিডিবি

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ২২, ২০২৬
গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছে শিশু। আনা হয়েছে হাসপাতালে। সেখানেও লোডশেডিং। শিশুকে বাতাস করার জন্য হাতপাখা ভরসা। পাবনা সদর হাসপাতাল, ২২ এপ্রিলছবি: হাসান মাহমুদ

গরম বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। তবে জ্বালানিসংকটের কারণে উৎপাদন ধরে রেখে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ দিতে হিমশিম খাচ্ছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দিনের বিভিন্ন সময়ে দুই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এর মধ্যে ভারতীয় কোম্পানি আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

পিডিবি ও আদানির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর ভারতে অবস্থিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটে যান্ত্রিক ত্রুটির সতর্কসংকেত পাওয়া যায়। প্রকৌশলীরা শব্দ শনাক্ত করে বড় দুর্ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে ইউনিটটি বন্ধ করে দেন।

পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, কারিগরি সমস্যার কারণে ইউনিটটি আপাতত উৎপাদনের বাইরে রয়েছে এবং এটি চালু হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

ভারতের ঝাড়খণ্ডে নির্মিত আদানির ১,৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে, প্রতিটির ক্ষমতা ৮০০ মেগাওয়াট। আগে কেন্দ্রটি গড়ে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করলেও একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় উৎপাদন কমে ৭৫০–৭৭০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে।

এদিকে বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের প্রভাবে দেশে কয়লা, গ্যাস ও তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বুধবার দিনে সর্বোচ্চ চাহিদা দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৬৯০ মেগাওয়াটে, যেখানে ঘাটতি মেটাতে প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। বিশেষ করে দুপুরের পর গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় এবং রাতের দিকে চাহিদা বাড়লে সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পিডিবি জানায়, পরিস্থিতি সামাল দিতে ফার্নেস তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। প্রয়োজনে উচ্চ ব্যয় সত্ত্বেও ডিজেলচালিত কেন্দ্র চালুর কথাও ভাবা হচ্ছে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও গ্যাসসংকট, জ্বালানি ঘাটতি ও রক্ষণাবেক্ষণের কারণে অনেক কেন্দ্র উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ১২,২০০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ সংকটে সেখান থেকে ৫,২০০ মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন করা যাচ্ছে না।

বর্তমানে গরম মৌসুমের শুরুতেই বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে, যেখানে উৎপাদন সীমাবদ্ধ ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটে। ফলে ঘাটতি পূরণে নিয়মিত লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বকেয়া বিল ও কয়লার দাম নিয়ে পিডিবির টানাপোড়েনও চলছে। সম্প্রতি বকেয়া দ্রুত পরিশোধের তাগিদ দিয়ে চিঠি দিয়েছে কোম্পানিটি। বকেয়া না মেটালে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে তারা।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে আদানি পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে ২৫ বছরের জন্য বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে বাংলাদেশ। তবে এই চুক্তি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান এবং ইতিমধ্যে একটি পর্যালোচনা কমিটি চুক্তিতে দুর্নীতির ইঙ্গিত পেয়েছে বলে জানিয়েছে।