চট্টগ্রাম সিটি কলেজ সংঘর্ষ: ছাত্রদলকে দায়ী করলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম - Uttorpatro TV

চট্টগ্রাম সিটি কলেজ সংঘর্ষ: ছাত্রদলকে দায়ী করলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ২২, ২০২৬

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রদলকে দায়ী করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে মামলা করা হবে।

বুধবার সকালে নগরের পাঁচলাইশ এলাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে আহত শিবিরকর্মী আশরাফুল ইসলামকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। সাদিক কায়েম বলেন, “এটা পরিষ্কার, ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরাই এই হামলার সঙ্গে জড়িত। আহতদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।” তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসে সহিংসতা সৃষ্টি করে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দুই দফায় সিটি কলেজে ছাত্রদল ও শিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। উভয় পক্ষের কর্মীদের ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়াতে দেখা যায়। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দুই পক্ষই।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, দেয়ালে লেখা একটি গ্রাফিতি—‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’—থেকে ‘ছাত্র’ শব্দ মুছে দিয়ে ‘গুপ্ত’ শব্দ লেখাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। এ ঘটনাকে ঘিরে দুই সংগঠনের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়।

চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ছবি: সংগৃহীত

সংঘর্ষে আহত শিবিরকর্মী আশরাফুল ইসলামের পায়ের গোড়ালি গুরুতরভাবে কেটে যায়। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন সাদিক কায়েম।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম। তার দাবি, শিবিরের কর্মীরাই প্রথমে ছাত্রদলের ওপর হামলা চালায়। “গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে তারাই ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা করেছে,” বলেন তিনি।

এদিকে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বুধবার বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর কাছে স্মারকলিপি দেন সাদিক কায়েম। স্মারকলিপিতে নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা তদন্তের দাবিও তোলা হয়েছে।