আগুনপ্রতীকী ছবি

রাজধানী ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত ও জনাকীর্ণ এলাকা পুরান ঢাকার চকবাজারে আবারও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার দুপুরে চকবাজারের খাজা মার্কেটের অন্তর্গত ‘আশিক টাওয়ার’ নামের একটি পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলায় এই আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। ভবনটির তৃতীয় তলার একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে। ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় আগুন যেন চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক জরুরি খুদে বার্তায় (এসএমএস) অগ্নিকাণ্ডের এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের পরিদর্শক মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, শনিবার বেলা ১টা ৩৪ মিনিটে চকবাজারের ওই বহুতল ভবনে আগুন লাগার খবর পান তারা। সংবাদ পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের লালবাগ স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। দুপুরের তীব্র যানজট ও পুরান ঢাকার সরু রাস্তা পেরিয়ে মাত্র ১২ মিনিটের মাথায়, অর্থাৎ বেলা ১টা ৪৬ মিনিটে ফায়ার ফাইটাররা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হন এবং তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে হঠাৎ করেই আশিক টাওয়ারের তৃতীয় তলা থেকে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখেন আশেপাশের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা। মুহূর্তের মধ্যে ভবনের ভেতরে থাকা সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা তাড়াহুড়ো করে ভবন থেকে নিচে নেমে আসেন। খাজা মার্কেট এলাকাটি অত্যন্ত বাণিজ্যিক এবং সেখানে প্লাস্টিক, কসমেটিকসসহ বিভিন্ন দাহ্য পদার্থের দোকান ও গুদাম থাকায় আগুন বড় রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে লালবাগ ফায়ার স্টেশনের পাশাপাশি সিদ্দিকবাজার ফায়ার স্টেশন থেকেও ব্যাকআপ টিম পাঠানো হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, সিদ্দিকবাজার ফায়ার স্টেশনের আরও চারটি ইউনিট ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে এবং তারা পথে রয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ছয়টি ইউনিট এই অগ্নিকাণ্ড নির্বাপণ ও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে যাচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে তাদের প্রধান এবং একমাত্র লক্ষ্য হলো আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং ভবনের ভেতরে কোনো মানুষ আটকে থাকলে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কোনো উৎস থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল।
পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকাটি বরাবরই অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকির মধ্যে থাকে। এখানকার ভবনগুলোর নকশা এবং অপরিকল্পিত বাণিজ্যিক ব্যবহারের কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ করতে বেগ পেতে হয়। তবে এবারের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত সাড়াদান পরিস্থিতি বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে বলে আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।