পুলিশ দম্পতির হাতে গৃহকর্মী নির্যাতন: সোনাডাঙ্গায় এএসআই সঞ্জয় ও পপি রানী গ্রেপ্তার, ভিকটিম হাসপাতালে - Uttorpatro TV খুলনায় গৃহকর্মীকে নির্মম নির্যাতন: সোনাডাঙ্গা থানার এএসআই পপি ও তার স্বামী সঞ্জয় গ্রেপ্তার

পুলিশ দম্পতির হাতে গৃহকর্মী নির্যাতন: সোনাডাঙ্গায় এএসআই সঞ্জয় ও পপি রানী গ্রেপ্তার, ভিকটিম হাসপাতালে

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: June 18, 2026
ছবিঃ সংগৃহীত

খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় এক গৃহকর্মীকে নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই অমানবিক অপরাধের সাথে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশ দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—সোনাডাঙ্গা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) পপি রানী সাহা এবং তার স্বামী এএসআই সঞ্জয় কুমার সরকার।

বর্তমানে নির্যাতিত ওই গৃহকর্মী গুরুতর আহত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাদের নিজেদের দুই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনেছে।

থানা পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার দ্বিতীয় ফেজের ৬ নম্বর সড়কের ৪১৪ নম্বর বাড়িতে এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী গৃহকর্মীর নাম মিলন চন্দ্র দাস (২০)। তিনি নরসিংদী জেলার বাসিন্দা ওকিল চন্দ্র দাসের সন্তান। মিলন দীর্ঘদিন ধরে ওই পুলিশ দম্পতির বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে আসছিলেন।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিলন চন্দ্র দাসের ওপর চড়াও হন এএসআই পপি রানী সাহা ও তার স্বামী এএসআই সঞ্জয় কুমার সরকার। একপর্যায়ে তারা মিলনকে ঘরের ভেতর আটকে রেখে লাঠি ও বিভিন্ন শক্ত বস্তু দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। মিলনের চিৎকারে প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে এবং পরবর্তীতে ঘটনাটি জানাজানি হয়।

নির্যাতনের খবর পেয়ে সোনাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বুধবার বিকেলেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা রক্তাক্ত ও অর্ধচেতন অবস্থায় ভিকটিম মিলন চন্দ্র দাসকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক দেখভালের পর মিলনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ওই দিন সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মিলনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাকে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ৯/১০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এসআই সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভিকটিমের শরীরে মারাত্মক জখম রয়েছে এবং বর্তমানে হাসপাতালে তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এই বর্বরোচিত ঘটনার পর আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে ভিকটিম মিলনের মা মিনতী রানী দাস বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা এবং গুরুতর আঘাত করার অপরাধে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। মামলায় এএসআই পপি রানী সাহা ও তার স্বামী এএসআই সঞ্জয় কুমার সরকারকে সরাসরি নামীয় আসামি করা হয়।

মামলা দায়েরের পরপরই সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ অ্যাকশনে যায় এবং অভিযুক্ত পুলিশ দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে থানা হেফাজতে নেয়। সোনাডাঙ্গা থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) হাসানুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আইন সবার জন্য সমান। অভিযুক্তরা পুলিশ বাহিনীর সদস্য হলেও অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। দুই আসামিকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি কঠোর বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

খুলনার এই ঘটনাটি স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া এই পুলিশ দম্পতির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা। পুলিশ প্রশাসনও দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে সাধারণ মানুষের আস্থা ধরে রাখার চেষ্টা করছে।