মহাখালীতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভ: ৭ দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ, চরম ভোগান্তিতে অফিসগামীরা - Uttorpatro TV মহাখালী-তেজগাঁও সড়ক অবরোধ করলেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা: ৭ দফা দাবি

মহাখালীতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভ: ৭ দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ, চরম ভোগান্তিতে অফিসগামীরা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: June 16, 2026
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে আবারও বকেয়া বেতন ও বিভিন্ন উৎসব-ভাতার দাবিতে রাজপথে নেমেছেন পোশাক শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল থেকে ঢাকার ব্যস্ততম মহাখালী-তেজগাঁও প্রধান সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন তারা। এর ফলে ওই এলাকার উভয় পাশের সড়কগুলোতে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। কর্মদিবসের সকালে আকস্মিক এই অবরোধের কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে গোটা রাজধানীতে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও অফিসমুখী সাধারণ মানুষ।

সকাল থেকেই অচল মহাখালী-তেজগাঁও সড়ক

সরেজমিনে দেখা যায়, মঙ্গলবার ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই শ্রমিকরা দলবেঁধে মহাখালী ও তেজগাঁও সংযোগ সড়কে অবস্থান নিতে শুরু করেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকের সংখ্যা আরও বাড়ে এবং তারা সড়কের মাঝখানে বসে পড়েন। এ সময় শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও পাওনা পরিশোধের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

প্রধান এই সড়কটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেজগাঁও, গুলশান, বনানী এবং টঙ্গীমুখী যানবাহনের চাকা পুরোপুরি থমকে দাঁড়ায়। বহু মানুষকে বাস ও অন্যান্য গণপরিবহন থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা হতে দেখা গেছে। বিশেষ করে অফিসগামী যাত্রী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও রোগীদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েন চালকরা।

“সকাল সাড়ে আটটার দিকে অফিসে যাওয়ার জন্য বের হয়েছিলাম। কিন্তু মহাখালী এসে দেখি রাস্তা পুরো ব্লক। কোনো গাড়ি নড়ছে না। বাধ্য হয়ে এই গরমে হেঁটে রওনা দিতে হয়েছে।”

ভুক্তভোগী এক ব্যাংক কর্মকর্তা

উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে দ্রুত উপস্থিত হন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তেজগাঁও ও মহাখালী জোনের পুলিশ কর্মকর্তারা শ্রমিকদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দাবি আদায়ের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

আন্দোলনরত গার্মেন্টস শ্রমিকরা তাদের বকেয়া পাওনা এবং আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও মালিকপক্ষের কাছে সুনির্দিষ্ট ৭টি দাবি তুলে ধরেছেন। দাবিগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • ১) মে মাসের বকেয়া: বিগত মে মাসের সম্পূর্ণ বেতন অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।

  • ২) ছুটির টাকা: ২০২৫ সালের জমাকৃত বার্ষিক ছুটির বিপরীতে প্রাপ্য অর্থ দ্রুত প্রদান করতে হবে।

  • ৩) বকেয়া এরিয়া বিল: ডিসেম্বর-২০২৫ এর বাকি থাকা এরিয়া বিলের টাকা এককালীন পরিশোধ করতে হবে।

  • ৪) নোটিশ পে-বিল: নিয়ম অনুযায়ী সব নোটিশ পে-বিল দ্রুততম সময়ে বুঝিয়ে দিতে হবে।

  • ৫) ৪ মাসের আগাম বেতন: দেশের প্রচলিত শ্রম আইন অনুসরণ করে পরবর্তী ৪ মাস তথা ১২০ দিনের সম্পূর্ণ বেতন ও অন্যান্য ভাতা অগ্রিম পরিশোধ করতে হবে।

  • ৬) শতভাগ সার্ভিস বেনিফিট: শ্রম আইন মোতাবেক প্রত্যেক শ্রমিক ও কর্মচারীর চাকরিজীবনের সব ‘সার্ভিস বেনিফিট’ ১০০ শতাংশ হারে বুঝিয়ে দিতে হবে।

  • ৭) হয়রানি বন্ধের নিশ্চয়তা: শ্রমিক ও কর্মচারীদের ন্যায্য প্রাপ্য আদায়ের আন্দোলনে যুক্ত থাকার কারণে পরবর্তীতে কোনো ধরনের পুলিশি মামলা, হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার বা হয়রানি করা যাবে না।

হঠাৎ করে ঢাকার অন্যতম প্রধান ধমনী খ্যাত এই সড়কটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিমানবন্দর সড়ক থেকে শুরু করে ফার্মগেট পর্যন্ত এর ক্ষতিকর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে। ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, বিকল্প রাস্তা হিসেবে গুলশান ও ডাইভারশন রোডগুলো ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, তবে অতিরিক্ত গাড়ির চাপে সেসব সড়কেও ধীরগতি দেখা দিয়েছে। দুপুরের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে বিকালের দিকে যানজট আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শ্রমিকদের দাবি, বারবার প্রতিশ্রুতির পরও মালিকপক্ষ তাদের পাওনা পরিশোধ না করায় তারা বাধ্য হয়েই রাজপথে নেমেছেন। এখন দেখার বিষয়, কত দ্রুত মালিকপক্ষ ও প্রশাসন আলোচনা করে এই অচলাবস্থা নিরসন করতে পারে।