২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত প্রায় ২ হাজার: দেশজুড়ে বাড়ছে শিশুর হাম ও হামের উপসর্গ - Uttorpatro TV ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত প্রায় ২ হাজার: দেশজুড়ে বাড়ছে শিশুর হাম ও হামের উপসর্গ

২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত প্রায় ২ হাজার: দেশজুড়ে বাড়ছে শিশুর হাম ও হামের উপসর্গ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ২৩, ২০২৬
হামের উপসর্গ থাকায় চার বছরের শিশু মুসকানকে কুর্মিটোলা হাসপাতাল থেকে পাঠানো হয় ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে। মায়ের কোলে হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে ভর্তির অপেক্ষায়। গতকাল দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

দেশজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম এবং হামের উপসর্গে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। মহামারি রূপ নেওয়া এই রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৫০০-এর কোটা ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে হাম ও হামের সদৃশ উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মোট ৫১২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১৩ জন শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। মৃত শিশুদের মধ্যে মাত্র একজনের শরীরে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত বা শনাক্ত হওয়া গেছে। বাকি ১২ জন শিশু হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।

২৪ ঘণ্টার আঞ্চলিক মৃত্যুর পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই সময়ে ঢাকা ও সিলেট বিভাগে সবচেয়ে বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঢাকায় ৪ জন এবং সিলেটে ৪ জন শিশু মারা গেছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ২ জন, বরিশালে ২ জন (যার মধ্যে ১ জন ল্যাব শনাক্ত) এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

দেশে এ সময়ে এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে শিশুর হাম ফাইল ছবি

মৃত্যুর পাশাপাশি নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন করে আরও ১ হাজার ৯৬৭ জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত সর্বমোট ৬২ হাজার ৫০৭ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে রোগাক্রান্ত হয়েছে।

আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৪৯ হাজার ৩৮৯ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হয়েছে। তবে স্বস্তির খবর এই যে, আক্রান্ত ও চিকিৎসাধীন শিশুদের মধ্যে ৪৫ হাজার ১১ জন শিশু ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে চলতি সময় পর্যন্ত মোট মৃত্যুর একটি বড় অংশই ঘটেছে ল্যাব পরীক্ষার আগেই, অর্থাৎ কেবল উপসর্গ নিয়ে। এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪২৬ জন শিশু। অন্যদিকে, রক্ত বা অন্যান্য ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে শতভাগ হাম শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ৮৬ জন শিশু।

চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুদের ক্ষেত্রে হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে এবং মারাত্মক একটি রোগ। সঠিক সময়ে টিকা না নেওয়া এবং পুষ্টির অভাবের কারণে শিশুরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। হামের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে তীব্র জ্বর, শরীর লালচে র‍্যাশ বা দানা ওঠা, সর্দি-কাশি এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। চিকিৎসকদের মতে, উপসর্গ দেখামাত্রই শিশুকে আইসোলেশনে বা আলাদা রাখতে হবে এবং দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে। কোনোভাবেই সাধারণ জ্বর মনে করে অবহেলা করা যাবে না, কারণ সঠিক চিকিৎসার অভাবে এটি নিউমোনিয়া বা মারাত্মক শ্বাসকষ্টে রূপ নিয়ে শিশুর মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করার এবং সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।