দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় শনিবার বিকেলে একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে রংপুর বিভাগ ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে এই কম্পন টের পাওয়া যায়। ভারতীয় সময় দুপুর ২টা ৪০ মিনিট এবং বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে এই ভূ-কম্পন অনুভূত হয়।
ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪.৫। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসাম রাজ্য। অন্যদিকে, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এই কম্পনের মাত্রা ৪.৪ বলে উল্লেখ করেছে।
ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প বিজ্ঞান কেন্দ্রের (ইএমএসসি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসামের বিলাসিপাড়া ছিল এই ভূমিকম্পের মূল কেন্দ্রবিন্দু। মাটির গভীরে সৃষ্ট এই কম্পন ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের উত্তর জনপদে প্রভাব ফেলে।
ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব ছিল কয়েক সেকেন্ড। বাংলাদেশে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে। লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, রংপুর শহর এবং ময়মনসিংহ জেলায় মৃদু ঝাঁকুনি অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভূমিকম্প নিয়ে পোস্টের বন্যা বয়ে যায়। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন। অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে বাসাবাড়ি ও অফিস থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। বিশেষ করে বহুতল ভবনের বাসিন্দারা কম্পনটি স্পষ্টভাবে অনুভব করেছেন বলে জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল এবং ভারতের আসাম অঞ্চল ভূমিকম্পের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ছোট ছোট এসব কম্পন বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস কি না, তা নিয়ে ভূতাত্ত্বিকরা পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।