বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার আসামিকে দলীয় পদ দেওয়ার ঘটনায় উত্তাল ফেনী। বিতর্কের মুখে ফেনী পৌর যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি স্থগিত এবং ঘোষিত ১২টি ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল। একই সঙ্গে তথ্য গোপনের অভিযোগে অভিযুক্ত নেতা গাজী এনামুল হক ওরফে সুজনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গত ৩০ এপ্রিল রাতে ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারী ১৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১২টি ওয়ার্ডের আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন। সেখানে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাম আসে গাজী এনামুল হকের। এরপরই জানাজানি হয় যে, এনামুল ২০১৭ সালে ফেনীর মহিপালে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা মামলার ২৫ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হলে আজ রোববার দুপুরে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়:
ফেনী পৌর যুবদলের বিদ্যমান কমিটির কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। গত ৩০ এপ্রিল ঘোষিত ১২টি ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করা হলো। তথ্য গোপন করে পদ নেওয়ায় গাজী এনামুল হককে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পৌর যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
এনামুল হককে পদ দেওয়ার প্রতিবাদে কমিটি ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ২ মে রাতে ৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতিসহ ৬ জন সদস্য পদত্যাগ করেন। পদত্যাগকারী সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী আবদুল কাদের অভিযোগ করেন, “এনামুল হক আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং ৫ আগস্টের পর ভোল পাল্টে বিএনপিতে ভিড়েছেন। একজন হামলাকারীর নেতৃত্বে রাজনীতি করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।”
বহিষ্কৃত নেতা গাজী এনামুল হক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, এটি পারিবারিক প্রতিহিংসার ফল। তিনি বলেন, “কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আমার জ্যাঠাতো ভাই। জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।”
অন্যদিকে, ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন জানান, মামলাটি আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর করা হয়েছিল এবং বিষয়টি জেলা বিএনপি ও যুবদল আগে থেকেই জানত। তবে কেন্দ্রীয় কমিটি বিষয়টিকে ‘গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ’ হিসেবে গণ্য করেছে।
২০১৭ সালে ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে ফেনীর মহিপাল এলাকায় বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে তৎকালীন সরকারদলীয় ক্যাডাররা হামলা চালায়। দীর্ঘ সাত বছর পর ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর যমুনা হাই ডিলাক্স পরিবহনের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিলন বাদী হয়ে একটি মামলা করেন, যাতে ২৮ জনকে আসামি করা হয়। সেই মামলারই ২৫ নম্বর আসামি ছিলেন এই এনামুল হক।