রাজশাহীর দাওকান্দি কলেজে শিক্ষককে জুতাপেটার ঘটনায় সেই নারী শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ - Uttorpatro TV

রাজশাহীর দাওকান্দি কলেজে শিক্ষককে জুতাপেটার ঘটনায় সেই নারী শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: April 26, 2026
রাজশাহীর দাওকান্দি সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ ও নারী শিক্ষককে মারধর ও কার্যালয় ভাঙচুর করা হয় ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে এক নারী শিক্ষককে প্রকাশ্যে জুতাপেটা করার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে। লাঞ্ছনার শিকার সেই শিক্ষক আলিয়া খাতুনকেই উল্টো সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে কলেজ পরিদর্শন শেষে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার (মাউশি) রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক মোহা. আসাদুজ্জামান এই নির্দেশ দেন।

একই সাথে উদ্ভূত পরিস্থিতির ব্যাখ্যা চেয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক আলিয়া খাতুন এবং কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাককে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী একটি তাফসির মাহফিলের দাওয়াত দিতে কলেজে যান। সেখানে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে আলিয়া খাতুন দুজনকে থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এর কিছুক্ষণ পর শাহাদত আলী নামে এক মৎস্য ব্যবসায়ী ও বিএনপি কর্মী কলেজে ঢুকে আলিয়া খাতুনের সাথে বিতণ্ডায় জড়ান। আলিয়া খাতুনের দাবি, শাহাদত তাঁকে কুরুচিপূর্ণ কথা বলায় তিনি প্রতিবাদস্বরূপ চড় মারেন। এর প্রতিক্রিয়ায় শাহাদত পা থেকে জুতা খুলে ওই নারী শিক্ষককে নির্মমভাবে পেটান।

প্রাথমিক লাঞ্ছনার পর শাহাদত আলীর ছেলে লিটন ও কর্মচারী মাহবুব কলেজে এসে দ্বিতীয় দফায় অধ্যক্ষ ও প্রদর্শককে মারধর করেন। পরবর্তীতে আরও ৪০-৫০ জন নেতাকর্মী এসে অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাঙচুর করে এবং পুনরায় শিক্ষক ও অধ্যক্ষের ওপর চড়াও হয়। ঘটনার সময় অধ্যক্ষের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

মাউশি পরিচালক মোহা. আসাদুজ্জামান জানান:

“তদন্তের স্বার্থে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আলিয়া খাতুনকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, গত শনিবার রাজশাহীর একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে অভিযুক্ত পক্ষের বিএনপি নেতারা ওই শিক্ষক ও অধ্যক্ষকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের আলটিমেটাম দিয়েছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, শিক্ষককে জুতাপেটা করা শাহাদত আলীর বিরুদ্ধে আগে থেকেই আদালতের একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। ওই পরোয়ানা মাথায় নিয়েই তিনি কলেজে ঢুকে এ কাণ্ড ঘটান। দুর্গাপুর থানার ওসি পঞ্চনন্দ সরকার জানান, শাহাদত আলীকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

বর্তমানে লাঞ্ছিত শিক্ষক আলিয়া খাতুন একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি জানান, শারীরিক ও মানসিকভাবে তিনি এখনো বিধ্বস্ত। সুস্থ হয়েই আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। অন্যদিকে, হামলার শিকার অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাকও হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন, তবে বর্তমানে তাঁর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।